মোদির বন্ধুদের টানছে কংগ্রেস

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

চলতি সপ্তাহেই দিল্লিতে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা ১০ জনপথে বৈঠকে বসেন। যেখানে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধীও। ভোট শেষ হতে ১০ দিনও বাকি নেই। ভোটের পরে নরেন্দ্র মোদি যাতে সহযোগী জুটিয়ে সরকার গড়তে না পারেন, সেজন্য এখন থেকেই সক্রিয় হয়েছে রাহুল গান্ধীর দল।

জোটের সঙ্গে কথা বলার জন্য রাহুল আগেই একটি কমিটি তৈরি করেছেন। সে বৈঠকে এ পর্যন্ত হওয়া ভোটের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। ভোট হয়ে যাওয়া কেন্দ্রগুলোর বুথ থেকে আসা রিপোর্ট খতিয়ে দেখা হয়। পাশাপাশিই ভোট পরবর্তী কৌশলও রচনা করেন রাহুলরা। দলের হিসাব, সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে অনেক পিছিয়ে থাকবে মোদির দল। এনডিএ’র শরিকদের নিয়েও সরকার গড়া কঠিন হবে। এই পরিস্থিতিতে কে চন্দ্রশেখর রাও, জগন্মোহন রেড্ডি, নবীন পট্টনায়কের ওপরে ভরসা করতে হতে পারে বিজেপিকে। কিন্তু এই নেতারা যাতে মোদি-মুখী না হন, সেজন্য এখন থেকেই চেষ্টা করতে হবে।

বৈঠকের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে জগনের সঙ্গেও যোগাযোগ তৈরি করেছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। কংগ্রেসের এক নেতা জানান, সবাই ধরে নিয়েছেন, বিজেপির সঙ্গে আগেভাগেই আঁতাত রয়েছে জগনের। তিনি তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাওয়ের সঙ্গেই থাকবেন। বিজেপি নেতৃত্ব সে ঘুঁটি সাজিয়েও রেখেছেন। কিন্তু ভোট শেষ হলে বিরোধীদের যে বৈঠক করা নিয়ে আলোচনা চলছে, তাতে জগনকে হাজির করার চেষ্টা হচ্ছে। কেসিআর-এর সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা হচ্ছে। কংগ্রেস সূত্রের বক্তব্য, তাদের দলের নেতা কে ভি টমাস এরই মধ্যেই জগনের কাকা সুভা রেড্ডির সঙ্গে কথা বলেছেন। জগনকে বিরোধীদলের বৈঠকে আসার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

কে চন্দ্রশেখর রাও এখন আর একবার বিজেপি ও কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে ‘ফেডারেল ফ্রন্ট’ গড়ার চেষ্টায় নেমেছেন। এর আগে যখন তিনি এ নিয়ে সক্রিয় হয়েছিলেন, তখন বিরোধী নেতারা বলেছিলেন, আসলে মোদির হাতে তামাক খাচ্ছেন তিনি। এবারেও সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিরোধী নেতারা। কিন্তু কংগ্রেসের কাছে খবর, কেসিআর আসলে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। প্রধানমন্ত্রী পদ না পেলেও উপপ্রধানমন্ত্রী হতে চান। সে বার্তা কেসিআর-এর পক্ষ থেকে দক্ষিণের কিছু দলকে দেওয়া হয়েছে। দূত মারফত কংগ্রেস বোঝানোর চেষ্টা করছে, কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে বিরোধী শিবিরের আঞ্চলিক দলগুলো সরকার গড়তে পারবে না। আর বিজেপির সঙ্গে গেলে কেসিআরের প্রধানমন্ত্রী বা উপপ্রধানমন্ত্রী হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

"