কয়লা মাফিয়াকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল : মোদি

প্রকাশ : ১১ মে ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার রাঙামাটিতে কয়লা মাফিয়াকে ঘিরে বিতর্ক বহু দিনের। রাঢ়বঙ্গের ওই দুই কেন্দ্রে ভোটের তিন দিন আগে জোড়া সভা থেকে মাফিয়া তৃণমূল আঁতাতের অভিযোগ নিয়ে সরব হলেন মোদি। লোকসভা ভোট যত শেষের দিকে এগোচ্ছে, বাংলায় তৃণমূলের প্রতি নরেন্দ্র মোদির আক্রমণ তত তীব্র হচ্ছে। রাঢ়বঙ্গের দুই জেলা বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় এসে প্রধানমন্ত্রী এবার রাজ্যের শাসক দলকে নিশানা করলেন কয়লা মাফিয়াদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ এনে। তার অভিযোগ, কয়লা মাফিয়ারা বাংলার সরকারের অংশীদার হয়ে ওঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘গণতান্ত্রিক থাপ্পড়’ মন্তব্যও হাতিয়ার হলো প্রধানমন্ত্রীর। কটাক্ষ করেই তিনি বলে গেলেন, দিদির থাপ্পড় আমার জন্য আশীর্বাদ হবে।

বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার রাঙামাটিতে কয়লা মাফিয়া চক্র ঘিরে বিতর্ক বহু দিনের। ওই দুই কেন্দ্রে ভোটের তিন দিন আগে জোড়া সভা থেকে মোদি এ বার মাফিয়া তৃণমূল আঁতাত নিয়ে সরাসরি সরব হয়েছেন। বাঁকুড়ায় তিনি বলেছেন, এই এলাকার কয়লা খাদানে মাফিয়ারা কী রকম কারবার চালাচ্ছে, আপনারা ভালো জানেন।

 

মাফিয়ারা তৃণমূলকে টাকা পাঠাচ্ছে। অথচ কয়লা থাদানের মজদুরেরা মজুরি পাচ্ছেন না। পরে পুরুলিয়ায় তার সংযোজন, এই এলাকা কালো স্বর্ণের ওপরে দাঁড়িয়ে আছে। তৃণমূল সেখানে মাফিয়াদের নিয়ে চলছে। তাদের সরকারের অংশীদার করে ফেলা হয়েছে। স্থানীয় মানুষের মন পেতে এর পরে বাংলায় প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য, মাফিয়া, অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে রাজনীতি করতে এই সরকার এত ব্যস্ত যে, আদিবাসী-জনজাতিদের দিকে মন নেই।

গত কয়েক দিনে নানা প্রচার-সভা থেকে মোদির বিরুদ্ধে ক্রমাগত সুর চড়িয়েছেন মমতা। বাঁকুড়ার কমলাডাঙা ও পুরুলিয়ার রায়বাঘিনী ময়দানে প্রবল দাবদাহের মধ্যেও উপচেপড়া ভিড়ের সামনে গত বৃহস্পতিবার মোদি বোঝাতে চেয়েছেন, রাজ্যপাটে টান পড়ার দুশ্চিন্তা থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর ভাষা লাগামছাড়া হচ্ছে। মাফিয়া প্রসঙ্গের সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য, মোদি এই কথাগুলো বলে বলেই দিদির রাগ হয়ে যায়। দেশের ১৩০ কোটি মানুষের ভালোবাসা মোদির সঙ্গে আছে। দিদির বরং বাংলার কোটি কোটি মানুষের হতাশা, ক্রোধ নিয়ে চিন্তা করা উচিত। দিদির দলের দাদাগিরি, বাংলায় গুন্ডাতন্ত্র কত দিন চলবে?

প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ বাংলায় এসে তৃণমূলকে ‘তোলাবাজ, সিন্ডিকেটের দল’ বলে আক্রমণ করছেন এবং তার জেরে তাদের ‘গণতান্ত্রিক থাপ্পড় দেওয়ার কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। কটাক্ষ ফিরিয়ে মোদি এ দিন বাঁকুড়ায় বলেছেন, দিদি এত হয়রান হয়ে আছেন, তার ভাষা থেকে আন্দাজ পাওয়া যাচ্ছে। আমাকে পাথর পাঠানোর কথা বলেন, থাপ্পড় মারতে তার মন চায়। মোদি তো সব রকম গালি হজম করার শক্তি অর্জন করে ফেলেছে। পরে পুরুলিয়ায় যোগ করেছেন, দিদি, থাপ্পড় আমার জন্য আশীর্বাদ হবে। কিন্তু চিট ফান্ডে যারা লাখ লাখ টাকা লুট করেছে, যারা তৃণমূল তোলা ট্যাক্স (টিটিটি) তুলছে, তাদের যদি থাপ্পড় মারার হিম্মত দেখাতেন, তাহলে কালি আপনার গায়ে লাগত না। এত রাগও আপনার হতো না।

"