প্রদীপের নিচেই অন্ধকার

প্রকাশ : ১১ মে ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৭০ বছরের পুরোনো মাছি ভনভন এই ঝুপড়িবাসীরাই (যার পোশাকি নাম বিআর ক্যাম্প) প্রধানমন্ত্রীর নিকটতম প্রতিবেশী তাহলে। আক্ষরিক অর্থে ধরলে ঢিল ছোড়া দূরত্ব হয়তো নয়। কিন্তু সাত নম্বর রেসকোর্স রোড (অধুনা লোককল্যাণ মর্গ) এর মেগা নিরাপত্তা বলয় শোভিত সিংহদ্বার থেকে হেঁটে বস্তিটিতে পৌঁছাতে এই দুর্দান্ত গরমেও ১০ মিনিটের বেশি লাগল না।

একটি রাস্তার দুই পারের ভারতের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য যেন। সাত রেসকোর্স রোডের উল্টো দিকের গলি দিয়ে ৩০০ মিটার ঢুকলেই ১৯৪৬ সালে তৈরি হওয়া দিল্লি রেস ক্লাব। তার পাশের লাগোয়া জমিতে প্রায় হাজার পাঁচেক মানুষের কায়ক্লেশে জীবনযাপন। কোথাও বাঁশ আর ত্রিপল দেওয়া ছাউনি, কোথাও টিনের শেড। অল্প সংখ্যকই ইটের বাড়ি। তারই মধ্যে ঘুপচিমতো বিড়ি-সিগারেটের ঠেক রাকেশ বনসলের। ক্যাম্পের পুরোনো বাসিন্দা। বলছেন, এখানকার রেস ক্লাবের ঘোড়ারাই আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে জানেন, কোনো নেতা, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী নন। তাাদের খাওয়ানো, ঘাসের পরিচর্যা, দেখভাল করার কাজ করেই এই বস্তির গুজরান হয়। এখন তো শুনছি, আমাদের নাকি তুলে দেবে। আমরা নাকি জবরদখলকারী। এত যুগ এখানে থাকার পর কোথায় যাব? নতুন কী কাজ করবে এখানকার মানুষ? ২৩ মে এর ফলাফলের পর যিনিই তাদের নতুন ‘প্রতিবেশী’ হন, তার কাছে এটাই অগ্রিম আর্জি এই ক্যাম্পের। পাকাপাকি থাকার সংস্থান।

১৯৪০ সাল নাগাদ শিয়ালকোট থেকে দফায় দফায় মানুষ দিল্লি এসে রাজা সোয়াই মান সিংহের পরিত্যক্ত এই জমিতে নিজেদের বেঁচে থাকার লড়াই শুরু করেছিলেন। কোনোমতে মাথা গোঁজা গিয়েছিল। গোড়ায় যে সংখ্যা ছিল ছিল হাজার খানেক, তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কালক্রমে এই বস্তির প্রতিবেশী হন দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী পদে বসা ব্যক্তিটি। কিন্তু প্রদীপের তলা একই রকম মাছির ভনভনেই থেকে গেছে।

ক্যাম্পের প্রেসিডেন্ট রমেশ কুমার অতীতে ফিরে গিয়ে বলছেন, ৮২ সালে ইন্দিরা গান্ধী এসে এখানে মাতা দুর্গা মন্দিরের উদ্বোধন করেছিলেন। রমেশ জানাচ্ছেন, গত পাঁচ বছরে বাড়তি উদ্বেগের কারণ, বিজেপির স্থানীয় নেতাদের পক্ষ থেকে লাগাতার উচ্ছেদের হুমকি। তারা যে ঠিক কারা, তা স্পষ্ট বলতে পারছেন না ক্যাম্পবাসীরা বা বলতে চাইছেন না। শুধু বলছেন, এমন নয় যেকোনো নোটিশ এসেছে। কিন্তু কথাটা যেন বাতাসে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের উঠে যেতে হবে।

বিজেপির মীনাক্ষী লেখি সেখানকার সংসদ সদস্য। জানা গেল, গত পাঁচ বছরে এক দিনও তিনি আসেননি এখানকার হালচাল দেখতে। বিধায়ক দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবাল। উভয়ের কাছেই নিজেদের পাকা বাসস্থানের আবেদন নিয়ে চিঠি গিয়েছে। কাজের কাজ হয়নি। হাইপ্রোফাইল (অবস্থানগতভাবে) এই নির্বাচনী এলাকায় মোদির প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি কেমন? স্বচ্ছ ভারত অভিযানের ছিটেফোঁটাও যে ঢোকেনি, তা মুম্বাইয়ের ধারাভির মতো এখানকার গলিঘুঁজি ঘুরলেই বোঝা যাচ্ছে। জল সরবরাহের অবস্থাও যে টিমটিমে তা প্রায় হাত ধরে একটা কলের কাছে নিয়ে গিয়ে দেখিয়ে দিল হাফপ্যান্ট পরা বালক শাহাদাত।

"