‘মোদির চায়ের দোকানে চা মেলে না’

প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বেশ কয়েক বছর আগে এই স্টেশন চত্বরটিতে থিকথিকে ভিড় হতো। সার সার দোকান ছিল চারপাশে। এখন সব উধাও। বছর দুয়েক আগেই খোদ নরেন্দ্র মোদি এসেছিলেন এই স্টেশন চত্বরে। ছত্তীশগঢ়ের বডনগর স্টেশনের চিত্র এটি।

চৌকিদারকে এবারের ভোটে চা বিক্রির তেমন সুযোগ দিচ্ছেন না রাহুল গান্ধী। কিন্তু ভোটে যদি ফের ‘চা-ওয়ালা’ হতে হতো? তার প্রস্তুতি ছিল পুরোদমে। অন্তত বডনগর স্টেশনে একটি মাত্র চায়ের দোকান তার সাক্ষ্য বইছে। যদিও চা সেখানে মেলে না। একটি ভাঙাচোরা টিনের ‘স্মারক’। তাতে লেখা ‘নরেন্দ্র মোদির চায়ের দোকান। আপনি সিসি টিভির নজরে।’

বছর দুয়েক আগেই খোদ নরেন্দ্র মোদি এসেছিলেন এই স্টেশন চত্বরে। তার আগে তার সংস্কৃতি মন্ত্রক রেল মন্ত্রকের সঙ্গে মিলে ৮ কোটি টাকা খরচ করে গোটা স্টেশনটি নতুন করে সাজায়। কিন্তু ‘মোদি’র চায়ের দোকানটি ছোঁয়াও হয়নি। সেটি অবিকল পুরোনো অবস্থাতেই রাখা হয়েছে।

বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে তথ্য জানার অধিকারে জানতে চাওয়া হয়েছিল, এই স্টেশনে নরেন্দ্র মোদি চা বিক্রি ছেন, এমন কোনো প্রমাণ কি আছে? রেল মন্ত্রণালয়কে উত্তর দিয়েছিল না। মোদি সরকারের সেই জবাব বিস্তর ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বটে। তবে তাতে প্রমাণ হয় না, মোদি চা বিক্রি করেননি। তবে গত লোকসভা ভোটে তো বটেই, সম্প্রতিও কংগ্রেস নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, মোদির চা বিক্রিও ‘জুমলা’ নয় তো?

কয়েক দিন আগেই ছত্তীশগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রী ভুপেশ বাঘেল বলেছেন, বডনগর স্টেশনটি আজও আছে। কিন্তু সেই কেটলি এখন পর্যন্ত কেউ দেখেননি, মোদি যাতে চা বিক্রি করতেন। আজ পর্যন্ত কাউকে পাওয়া যায়নি, যিনি মোদির কেটলি থেকে চা খেয়েছেন। সম্পর্ক তিক্ত হওয়ার আগে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রায় চার দশকের ‘বন্ধুত্ব’ ছিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সাবেক নেতা প্রবীণ তোগাড়িয়ার। তিনিও বলেছেন, মোদিকে চা বিক্রি করতে কখনো দেখা যায়নি। শুধু সমীহ কাড়তে চা-ওয়ালা ভাবমূর্তি তৈরি করেছেন।

সত্যিই কি মোদি কখনো চা বিক্রি করেননি? চা বানিয়ে কাউকে খাওয়াননি? এই প্রশ্নের জবাব একমাত্র পুরোনো লোকেরাই দিতে পারেন। কিন্তু স্টেশন চত্বরে তেমন লোক কই? গোটা স্টেশন এখন লাল পাথরে সাজছে। ভাঙাচোরা চায়ের দোকানের পাশে পুরোনো টিকিট কাউন্টার। সেখানে উঁকি দিতে কয়েকজন বেরোলেন। কিন্তু তারা ভিন্ন রাজ্যের শ্রমিক। অগত্যা স্টেশনের বাইরে বেরোতে হলো। প্রথম যে দোকান পাওয়া গেল, সেটি রমনজি তাখাজির। দুই প্রজন্মের দোকান। রমনজির বয়সও ষাটের ওপরে। প্রশ্নটি প্রথম তাকেই করলাম, নরেন্দ্র মোদিকে কখনো চা বানিয়ে বিক্রি করতে দেখেছেন? জবাব এলো আমি তো কখনো দেখিনি। আগে দামোদরদাসের (মোদির বাবা) চায়ের দোকান ছিল স্টেশনের বাইরে। যেখানে এখন চায়ের দোকান সাজিয়ে রাখা হয়েছে, সেখানে ছিল না সেটা। কিন্তু দেখুন, সেই এক চায়ের দোকান সাজানোর জন্য আশপাশের ১০০ দোকান উচ্ছেদ করে দিয়েছে। সবাই এখন বেকার।

কিন্তু কেউ কি দেখেছেন? এক দূরেই এক বৃদ্ধাশ্রম চালান মোদির দাদা সোমভাই। সেখানে যান, হদিস দিলেন প্রবীণ দোকানি। ‘শ্রী সাই ধাম’ বৃদ্ধাশ্রম। ভেতরে ঢুকতেই আরাম কেদারায় জনা তিনেক বৃদ্ধ হাতজোড় করে বললেন, জয় শ্রীকৃষ্ণ। তাদেরই একজন প্রজাপতি যাদব। প্রশ্ন একই। উত্তর : আমরা তো দেখিনি, ম্যানেজারকে জিজ্ঞেস করুন। ম্যানেজার, সচিন পটেল। বয়সে নবীন। ঘোর বিজেপি সমর্থক। কর গুনে বলে দিলেন, দুটি ছাড়া গুজরাতের সব আসন যাবে বিজেপির ঝুলিতে। সোমভাই শহরে নেই। সচিনের কাছে উত্তরও নেই। কিন্তু উত্তর কে দিতে পারেন, তা নিয়ে ভাবলেন কিছু ক্ষণ। ফোনও করলেন কয়েকজনকে। অবশেষে একটা ঠিকানা দিয়ে বললেন, মোদির স্কুলের সহপাঠীর কাছে যান। জাসুদ খান, ইনি পাঠান।

 

"