ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনবিরোধী প্রস্তাব নাকচ ট্রাম্পের

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মার্কিন সিনেটের একটি প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার সিনেটের এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবে ভেটো দেন তিনি। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যের দারিদ্রকবলিত দেশটিতে সৌদি জোটের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র যেন আর সমর্থন না দেয়। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।

এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, এই প্রস্তাব আমার সাংবিধানিক কর্তৃত্বকে দুর্বল করার জন্য, অপ্রয়োজনীয় ও বিপজ্জনক প্রচেষ্টা। এটি আজকের এবং আগামীর জন্য আমেরিকান নাগরিক ও দেশের সাহসী কর্মীদের জীবনকে বিপন্ন করে তুলছে। সিনেটে এই প্রস্তাবের কো-স্পন্সর ছিলেন ভারমন্টের ডেমোক্র্যাটদলীয় সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স।

মঙ্গলবার ট্রাম্পের ভেটোর পর টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে এ নিয়ে কথা বলেন বার্নি স্যান্ডার্স। তিনি বলেন, ট্রাম্পের ভেটো দেওয়ার ঘটনায় তিনি হতাশ হলেও বিস্মিত হননি। ডেমোক্র্যাটদলীয় এই সিনেটর বলেন, বোমা নয়, ইয়েমেনের জনগণের প্রয়োজন মানবিক সহায়তা। ইয়েমেনের ভয়াবহ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে সম্পৃক্ততা বন্ধের প্রস্তাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন। এতে আমি হতাশ। কিন্তু অবাক হচ্ছি না।

২০১৫ সালে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদিকে উচ্ছেদ করে রাজধানী সানা দখলে নেয় ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থি হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পালিয়ে যান হাদি। ২০১৫ সালের মার্চে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মিত্রদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ‘অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব। সৌদি জোটের অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত নারী-শিশুসহ ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে নৃশংসভাবে হত্যার পর এই যুদ্ধের সমালোচনা তীব্র হতে থাকে। গত ডিসেম্বরের গোড়ার দিকে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে মানবিক সহায়তার জন্য ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতিতেই ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসন বন্ধের লক্ষ্যে সিনেটে প্রস্তাব তোলেন বার্নি স্যান্ডার্স।

সিনেটের অনেক রিপাবলিকান সদস্যও আগ্রাসনে মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতার বিরোধী। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই প্রস্তাব যথার্থ নয়। কেননা, ইয়েমেনযুদ্ধে মার্কিন বাহিনী শুধু বিমানের জ্বালানি ও অন্য সহায়তা দিচ্ছে, তারা সরাসরি যুদ্ধ করছে না।

ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে, প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে তা সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এর ফলে জঙ্গিবাদের বিস্তার রোধে মার্কিন সক্ষমতা ক্ষণœ হবে। তবে ইয়েমেনে সৌদি জোটের সামরিক আগ্রাসনকে মানবিক বিপর্যয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স।

 

"