লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

মন্দির থেকে ফিরে যশোদাবেন বললেন, সব পুজো তার জন্যই

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‘আপনি কলকাতা থেকে এসেছেন? কয়েক মাস আগেই তো আমি সেখানে গিয়েছিলাম।’ ঘরে ঢুকে খাটিয়াতে বসতে বসতেই আগন্তুকের সঙ্গে নমস্কার বিনিময় শেষে হাসি মুখে কথাগুলো বললেন যশোদাবেন।

যশোদাবেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্ত্রী, হাতে ঝোলানো চামড়ার ভ্যানিটি ব্যাগটা নামিয়ে রাখলেন খাটিয়ায়। তারপর আচমকাই জিজ্ঞেস করলেন, আপনাকে জল দিয়েছে? উত্তরের অপেক্ষা না করে পাশে বসা ভাইপো জয়কে জিজ্ঞাসা করলেন, তাকে জল দিয়েছ? বছর ২০-এর জয় ঘাড় নেড়ে ‘হ্যাঁ’ বলায় এবার ফিরে তাকালেন আগন্তুকের দিকে। হেসে বললেন, যা গরম, আপনি কিন্তু দুপুরের খাবার খেয়ে যাবেন।

বড্ড নিচু গলায় কথা বলেন। মাঝে মাঝে দুই-একটা শব্দ ঠিকঠাক শোনাই যাচ্ছে না। ঢাকা পড়ে যাচ্ছে ওপরের বহু পুরোনো ফ্যানের আওয়াজে। মুখে সর্বদাই একটা হাসি লেগে। সবিনয়ে জানানো গেল, মেহসানায় একটু আগেই সকালের জলখাবারের পর্ব মিটেছে। কাজেই... এই কথার ফাঁকেই তিনি চামড়ার ব্যাগটায় হাত ঢুকিয়ে বার করে আনলেন একটা ছোট্ট ডায়েরি। বেশ কয়েকটা উল্টে একটা নির্দিষ্ট পাতা খুলে আগন্তুকের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন, এই দেখুন। এর বাড়িতে গিয়েছিলাম এয়ারপোর্ট থেকে। ইংরেজিতে একটা মোবাইল নম্বর। সঙ্গে গুজরাতিতে লেখা কয়েকটা শব্দ। তাকেই জিজ্ঞেস করলাম, কারো নাম লেখা কি? ঘাড় নেড়ে যশোদাবেন এক ভদ্রমহিলার নাম বললেন। তার পর ডায়েরিটা ফের ঢুকিয়ে রাখলেন।

এই যশোদাবেনের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির আনুষ্ঠানিক বিয়ে হয় যখন, তখন তার বয়স ১২। আর নরেন্দ্রর বছর ১৪। দুই পরিবারের প্রথা মেনে দুজনে অবশ্য একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন তার বছর পাঁচেক পর, ১৯৬৮ সালে। যদিও সে সংসার বেশিদিন থাকেনি। সন্ন্যাসের টানে হিমালয়ের পথে বেরিয়ে পড়েছিলেন মোদি। মোদির জীবনের পরের ইতিহাস অনেকেরই জানা। কিন্তু আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে যে ঘর বাঁধার স্বপ্ন ছিল যশোদাবেনের, পরিস্থিতির ধারায় তা অন্য খাতে বইতে শুরু করেছিল।

৫০ বছর পর, যে ঘরে আমরা বসে, সেটা মাঝারি মাপের। দারিদ্র্যের ছাপ দেওয়ালের প্রতিটা ইঞ্চিতে। পাল্লাহীন দেওয়াল-আলমারিতে জামা-কাপড় গোঁজা। ইতিউতি ঝুলছে চিপস, মশলার নানাবিধ প্যাকেট। বাইরে বসে থাকা কুকুরটা রোদ্দুর চওড়া হওয়ায় একেবারে ঘরের ভেতর এসে সেঁধিয়েছে। এসবের মধ্যেই বসে যশোদাবেন। পরনে খয়েরি রঙের শাড়ি। পাড়ের রংটা কোনো এককালে সোনালি ছিল কি। ঘিয়ে আঁচলটা ট্র্যাডিশনাল গুজরাতি স্টাইলে সামনে দিয়ে ঘুরিয়ে আনা। দুই হাতে লাল রঙের পলার ওপর পাথর বসানো। আলাদাভাবে সরু পলাও রয়েছে। ডান হাতে লাল সুতো বাঁধা। তামাটে রঙের ফ্রেমের চশমা। কানে সোনার ছোট্ট টপ। কপালে মেরুন টিপ ঘিরে ছোট পাথরের সারি। তার ঠিক ওপরেই যজ্ঞের লাল গোল তিলক মন্দির থেকে এলেন যে। খাটিয়ায় বসে থাকা যশোদাবেনকে দেখে সাদামাটা শব্দটাও লজ্জা পাবে।

ঘণ্টা খানেক আগে পৌঁছেছিলাম ব্রাহ্মণওয়াড়ায়। প্রথমে গ্রামের পোস্ট অফিস, তারপর এক পানদোকানির সহায়তায় খুঁজে পেয়েছিলাম অশোক মোদির বাড়ি।

সৌজন্যে: আনন্দবাজার পত্রিকা

 

"