‘যুক্তরাষ্ট্রে ন্যায়বিচারের অভাবই অ্যাসাঞ্জের উদ্বেগের কারণ’

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে ন্যায়বিচারের অভাবই জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের উদ্বেগের কারণ বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী জেনিফার রবিনসন। গত রোববার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজ টেলিভিশনের সঙ্গে আলাপকালে এ নিয়ে কথা বলেন জেনিফার। তিনি বলেন, আমেরিকার অবিচারের মুখোমুখি হওয়ার বিষয়ে বরাবরই তার মক্কেলের উদ্বেগ রয়েছে। তবে যুক্তরাজ্য বা সুইডেনে বিচারের মুখোমুখি হতে তার কোনো উদ্বেগ নেই।

জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের আইনজীবী জেনিফার রবিনসন বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে ব্রিটিশ বা সুইডিশ বিচার ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের কখনো কোনো উদ্বেগ নেই। তার উৎকণ্ঠা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অবিচারের মুখোমুখি হওয়া নিয়ে।

তিনি বলেন, কঠিন শর্ত মেনে নিয়ে সাত বছর লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসের আশ্রয় নিয়েছিলেন অ্যাসাঞ্জ। তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হতে পারে, এমন ভয় থেকেই কঠিন শর্ত মেনে তিনি সেখানে আশ্রয় নেন।

জেনিফার রবিনসন বলেন, সুইডেনের তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অ্যাসাঞ্জ সবসময়ই সহায়তা করেছেন। তবে সুইডেন তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে না দেওয়ার নিশ্চয়তা না দেওয়ায় ইকুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় চাইতে হয় অ্যাসাঞ্জকে।

এদিকে অ্যাসাঞ্জকে যেন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া না হয়, সে দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। এরই মধ্যে অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ না করার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের বিরোধীদল লেবার পার্টি। দলটির নেতা জেরেমি করবিন থেকে শুরু করে ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডায়ান অ্যাবোট পর্যন্ত এ দাবিতে একাত্ম হয়েছেন। তাদের দাবি, মানবাধিকারের সুরক্ষার তাগিদে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে যেন কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ না করা হয়। তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে এখন পর্যন্ত এই দাবি মেনে নেওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি। উল্টো অ্যাসাঞ্জের গ্রেফতারকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।

২০১২ সালের জুন থেকে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছিলেন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। ৪ এপ্রিল উইকিলিকসের টুইটে বলা হয়, ইকুয়েডর সরকারের উচ্চপর্যায়ের দুটি সূত্র থেকে তারা নিশ্চিত হয়েছে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিনের মধ্যে অ্যাসাঞ্জকে দূতাবাস থেকে তাড়ানো হতে পারে। সেই ধারাবাহিকতায় রাজনৈতিক আশ্রয় প্রত্যাহার করে ১১ এপ্রিল তাকে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে তুলে দেয় ইকুয়েডর। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ করা হয়েছে। এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে মামলার ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সেখানে দোষী সাব্যস্ত হলে তার পাঁচ বছরের কারাদন্ড হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অ্যাসাঞ্জকে যেন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া না হয়, সে দাবিতে আওয়াজ তুলেছেন লেবার পার্টির নেতারা।

"