রামমন্দির ইস্যুতে বিহারে বিজেপি-জেডিইউ সংঘর্ষ

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নির্বাচনের আগেই রামমন্দির ইস্যুতে বিহারে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লেন বিজেপি এবং জনতা দল (ইউনাইটেড) সমর্থকেরা। সভা চলাকালীন নেতাদের লক্ষ্য করে ছোড়া হলো চেয়ার, ভেঙে দেওয়া হলো মঞ্চ, টেবিলের ওপর উঠে পড়েও তা-ব চালালেন কোনো কোনো সমর্থক। এনডিএ জোটের অন্যতম দুই শরিক দলের নেতা-সমর্থকদের মধ্যে এই মারধরের খবর সামনে আসার পর অবশ্য তা বড় করে দেখতে নারাজ জোটের নেতারা। এই জোটের আরেক শরিক এবং লোক জনশক্তি পার্টির (এলজেপি) নেতা ও রাজ্যের মন্ত্রী পশুপতি পরসের দাবি, স্থানীয় মানুষ কিছুই জানে না। সংবাদ মাধ্যমই তা বাড়িয়ে দেখাচ্ছে।

নির্বাচনের কৌশল ঠিক করতে গত শুক্রবার বিহারের হাজিপুরে জড়ো হয়েছিলেন বিজেপি, জেডিইউ এবং এলজেপি দলের কর্মী এবং সমর্থকরা। সেখানেই রামমন্দির তৈরির প্রশ্নে বিজেপি এবং জেডিইউ সমর্থকদের মধ্যে মতভেদ থেকে শুরু হয়ে যায় হাতাহাতি। জেডিইউ নেতা সঞ্জয় বর্মা রামমন্দির নিয়ে তার বক্তব্য জানাতেই ক্ষেপে উঠেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। টেবিলে উঠে পড়ে তার বিরুদ্ধে সেøাগান দিতে শুরু করেন তারা। পাল্টা সেøাগান দিতে থাকেন জেডিইউ সমর্থকরাও। কিছুক্ষণের মধ্যে রণক্ষেত্র হয়ে উঠে সভাস্থল। শুরু হয় চেয়ার ছোড়াছুড়ি। কেউ কেউ মঞ্চে উঠেও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

অযোধ্যায় বিতর্কিত জমিতে রামমন্দির তৈরি এবং জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ সুবিধা দিতে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ এবং ৩৫-এ ধারা নিয়ে দুই দলের বিরোধিতা যথেষ্ট পুরোনো। যদিও সেই বিরোধিতাকে দূরে সরিয়েই জোট তৈরি করে এই মুহূর্তে বিহারে ক্ষমতাসীন বিজেপি এবং জেডিইউ। আগামী লোকসভা নির্বাচনেও বিহারের ৪০টি আসনের মধ্যে ১৭টি করে আসনে লড়ছে এই দুই দল। বাকি ছয়টি আসন ছাড়া হয়েছে এনডিএ’র আরেক শরিক রামবিলাস পাসওয়ানের লোক জনশক্তি পার্টিকে।

এই নির্বাচনেও নিজেদের ইশতেহারে রামমন্দির তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি। একইসঙ্গে কড়া অবস্থান নিয়েছে ৩৭০, ৩৫-এ এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে। বিভিন্ন জনসভায় সারা দেশে এনআরসি চালু করা হবে বলেই জানাচ্ছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। অন্য দিকে আজ রোববার নিজেদের ইস্তাহার প্রকাশ করার কথা জানিয়েছে নীতীশ কুমার নেতৃত্বাধীন জেডিইউ। সেখানে রামমন্দির নির্মাণ, জম্মু-কাশ্মীরের জন্য বিশেষ সুবিধা এবং নাগরিকত্ব বিল, এই তিনটি প্রশ্নেই শরিক বিজেপির সঙ্গে ভিন্নমত হতে পারে জেডিইউ, এমনটাই অনুমান রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। সেই বিরোধই আগে থেকে সংঘর্ষের চেহারা নিল বিহারের হাজিপুরে। জোটের শরিকদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেই এই হাতাহাতির খবর সামনে আসার পর হাজিপুরের এলজেপি নেতা এবং রামবিলাস পাসওয়ানের ভাই পশুপতি পরস অবশ্য বললেন, সংবাদ মাধ্যমই এই ঘটনাকে বড় করে দেখাচ্ছে।

সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই।

বিভিন্ন ইস্যুতে নিজেদের মতভেদের কথা অবশ্য স্বীকার করে নিয়েছেন জেডিইউ নেতা কে সি ত্যাগী। সংবাদসংস্থাকে তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে মতভেদ আছে। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে আমরা আগেও আপত্তি জানিয়েছিলাম। এখনো তাই জানাচ্ছি। আগামী দিনেও আমাদের বিরোধিতা জারি থাকবে। একইসঙ্গে তাৎপর্যপূর্ণভাবে তার মন্তব্য, ধর্ম এবং সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনা নজিরবিহীন। আমার ৪০ থেকে ৪৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এইভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটতে দেখিনি।

 

"