যুক্তরাষ্ট্রকে সময় বেঁধে দিলেন কিম

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সময় বেঁধে দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। তিনি বলেছেন, দুই দেশের আলোচনার বিরতিতে ফের উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরির ঝুঁকি বেড়েছে। তবে অবস্থান পরিবর্তন করে ওয়াশিংটনের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ফেরার জন্য তিনি এক বছর অপেক্ষা করবেন। এ সময়ের মধ্যে দেশটি যথার্থ অবস্থানে ফিরলে আবারও ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন কিম। গতকাল শনিবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ’র বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

কিম জং উন প্রতিবেদনে বলা হয়, পারমাণবিক ইস্যুসহ নানা বিষয়ে এ বছরের শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে সময় দিতে আগ্রহী কিম। তার প্রত্যাশা, এতে করে যুক্তরাষ্ট্র আরো ইতিবাচক ও নমনীয় হবে। কিম জং উন বলেন, ওয়াশিংটনকে অবশ্যই তার গতানুগতিক চিন্তাধারার ইতি টানতে হবে। পিয়ংইয়ংয়ের কাছে আসতে তাদের নতুন করে ভাবতে হবে।

এদিকে গত মার্চে স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা ব্যক্ত করেন, উত্তর কোরিয়া হয়তো ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে সেটি উত্তর কোরিয়ার নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতিও হতে পারে। শঙ্কা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ সানুমডং নামের সংশ্লিষ্ট স্থানটিতে আগে থেকেই উত্তর কোরিয়া ব্যালিস্টিক মিসাইল মোতায়েন করা রয়েছে। সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার এমন প্রস্তুতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টিকে হতাশাজনক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

উত্তর কোরিয়া যাতে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র গবেষণা পরিহার করে তা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ার ওপর চাপ দিয়ে আসছে। দেশটির ওপর দীর্ঘদিন ধরে বলবৎ রয়েছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ২০১৮ সালের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সিঙ্গাপুরে এক ঐতিহাসিক সম্মেলনে মিলিত হন। সেখানে চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা না হলেও দুই পক্ষ আবারও মিলিত হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ভিয়েতনামের হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত হয় ট্রাম্প-কিম দ্বিতীয় সম্মেলন।

কিন্তু সেখান থেকেও সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি।

সম্প্রতি জানা গিয়েছিল, উত্তর কোরিয়া সোহায়ে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের মূল স্থাপনার উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করেছে। গত বছর ওই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। কিন্তু এরপর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপে কাক্সিক্ষত অগ্রগতি অর্জিত না হওয়ায় তা স্থগিত করা হয়। সোহায়ের পর খবর এলো সানুমডংয়ের।

স্যাটেলাইটে তোলা ছবি থেকে দেখা যায়, উত্তর কোরিয়া সানুমডংয়ে বড় বড় গাড়ি পাঠিয়েছে। গাড়িগুলো স্যাটেলাইট বা ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চপ্যাডের কাছে নিয়ে যেতে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। সানুমডংয়ে উত্তর কোরিয়া স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে কি-না ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলেছেন, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য ব্যবহৃত রকেট ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার জন্য খুব একটা কার্যকর নয়। এটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র বলছে, যদি সেটা হয়ে থাকে তাহলেও তা ট্রাম্পের সঙ্গে কিম জং উনের সমঝোতার খেলাপ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার এমন পদক্ষেপের বিষয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘এ দাবি যদি সত্য হয় তাহলে আমি বিস্মিত হব। কারণ তার সঙ্গে আমার যে সমঝোতা হয়েছে সেটার সঙ্গে এই বিষয়টি যায় না। আমি খুবই হতাশ হব, যদি আবার তারা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা শুরু করে।’

দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে নিয়োজিত বিবিসির সাংবাদিক লরা বিকার মন্তব্য করেছেন, ভিয়েতনামে আশাব্যাঞ্জক কোনো সমঝোতা না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে রাখতে এই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এরই মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে ওয়াশিংটনকে সময় বেঁধে দেওয়ার কথা বললেন কিম জং উন।

 

"