মমতার সভা ভরে গেল শাহের সভায় লোক কম

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দার্জিলিংয়ের চকবাজারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা ভরে গেল। কিন্তু কালিম্পংয়ে গ্রাহামস হোমের পাশের মাঠে অমিত শাহের সভায় মেরেকেটে হাজার তিনেক লোক। সভায় হাজির বিমল গুরুংপন্থি মোর্চা এবং জিএনএলএফের লোকজন তখন বলাবলি করছে, সকালেই দেখা গেল গাড়িকে গাড়ি লোক বেরিয়ে যাচ্ছে শহর থেকে। খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, তাদের লক্ষ্য ছিল দার্জিলিংয়ে মমতার সভা। এমন যদি হয়ে থাকে, তাহলে মাঠ ভরবে কিভাবে?

দার্জিলিংয়ের সভার পরে অবশ্য অন্য কথা বলছেন পাহাড় তৃণমূল এবং বিনয় তামাংপন্থি মোর্চার লোকজন। তাদের কথায়, চকবাজারে সাধারণ সমতলের দলগুলো সভা করতে ভয় পায়। কারণ, এটা শহরের কেন্দ্রস্থল। এখানে সুবাস ঘিসিং, বিমল গুরুংরা সভা করেছেন। এমনকি, ২০১৭ সালের আন্দোলন শুরুর পরেও এখানে সভা করে নিজের শক্তি প্রদর্শন করেছিলেন গুরুং। সেখানে বহু বছর পরে মমতার সভা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৃষ্টির আশঙ্কায় সভা ঢেকে দেওয়া হয়েছিল ছাউনিতে। করা হয়েছিল বসার ব্যবস্থাও। তাতেও ভিড় সেই এলাকা ছাপিয়ে গিয়েছে।

তৃণমূল সূত্রে বলা হচ্ছে, পাহাড়ে যে সমতলের দলগুলোর জোর বেড়েছে, গুরুং চলে যাওয়ার পরে গণতন্ত্র এসেছে, সেটা প্রমাণ করে দিল এ দিনের সভা। এই ভিড় শেষাবধি ভোটবাক্সে যাবে কি-না, তা নিয়ে নিশ্চিত নন তারা। তবে ভিড় দেখে তৃণমূল নেতৃত্বও খুশি।

কিন্তু কালিম্পংয়ের সভার এমন দশা হলো কেন? প্রশ্ন শুনে বিমলপন্থি এবং জিএনএলএফের কর্মীরা অভিযোগ করছেন, পুলিশ অনেক ক্ষেত্রে অসহযোগিতা করেছে। লোকজনকে ভুল পথে চালিত করেছে। অনেক ক্ষেত্রে তাদের কর্মীদের সভায় আসতে বাধা দিয়েছে বিনয়পন্থিরা। যদিও এই সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিনয়পন্থিরা। তবে ঘটনা যা-ই হোক, অমিত শাহ আসার আগে যখন মোট হাজার খানেক লোক ছিল সভাস্থলে, তখন দৃশ্যতই বিব্রত দেখাচ্ছিল বিজেপির পাহাড়ের নেতা মনোজ দেওয়ান এবং প্রার্থী রাজু বিস্তকে।

তারা বিভিন্ন জায়গায় ফোনও করেন। শেষে কিছু কিছু করে লোক বাড়তে থাকে। অমিত যখন মঞ্চে উঠেন, তখন দর্শক সংখ্যা হাজার তিনেক।

হাজির সেই জনতাকে আশ্বাস দেওয়ার চেষ্টা করেন বিমলপন্থি মোর্চার কার্যকরী সভাপতি লোকসাম লামা। বলেন, ‘আপনারা ভয় পাবেন না। পাহাড়ে আমরাই জিতব।’ শুনে এক বিনয়পন্থি নেতা বলেন, ‘কে জিতবে, সেটা তো ২৩ মে জানা যাবে। আগে থেকে বলেন কিভাবে?’

 

"