স্নাতকও নন হলফনামায় মানলেন স্মৃতি

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২০০৪-এর লোকসভা নির্বাচনে মনোয়নের সঙ্গে হলফনামায় স্মৃতি জানিয়েছিলেন, ১৯৯৬-এ তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেছেন। তিনি যে স্নাতক স্তরের লেখাপড়াটাও শেষ করেননি, এবার নিজেই জানিয়ে দিলেন মোদি সরকারের সাবেক উচ্চশিক্ষামন্ত্রী স্মৃতি ইরানি।

অমেঠীতে তিনি এবারও রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে প্রার্থী। গত বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে পাশে নিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে মিছিল করে জেলা সদর গৌরীগঞ্জে গিয়ে মনোনয়নপত্র পেশ করেছেন স্মৃতি জুবিন ইরানি। সেই মনোনয়নের সঙ্গে দেওয়া হলফনামায় সাবেক উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ১৯৯৩-এ দিল্লির হোলি চাইল্ড অক্সিলিয়াম স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাসের পরের বছরে তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের করেসপন্ডেন্স কোর্সে বিকমে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু লেখাপড়া শেষ করতে পারেননি।

এর আগে ২০০৪-এর লোকসভা নির্বাচনে মনোয়নের সঙ্গে হলফনামায় স্মৃতি জানিয়েছিলেন, ১৯৯৬-এ তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেছেন। আবার রাজ্যসভা নির্বাচনে গুজরাত থেকে প্রার্থী হওয়ার সময়ে তিনি যে হলফনামা দিয়েছিলেন, তাতে তিনি বিকমের পার্ট ওয়ান পাস বলে উল্লেখ করেছিলেন। ২০১৬-এ আহমের খান নামে একজন দিল্লির আদালতে অভিযোগ করেন, নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে এক একবার এক এক রকম হলফনামা দিয়ে বেআইনি কাজ করেছেন ইরানি। পরে জানা যায়, উচ্চশিক্ষামন্ত্রী হিসেবে স্মৃতি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, এমনকি তথ্যের অধিকার আইনেও যদি কেউ তার শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে কোনো তথ্য জানতে চান, তাকে যেন তা না দেওয়া হয়। বারবার জানতে চাওয়া হলেও নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কোনো ব্যাখ্যা স্মৃতি দেননি।

সে জন্যই তার এবারের হলফনামা নিয়ে আগ্রহ ছিল। তাতে তিনি মেনে নিয়েছেন, দেশের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী পদে থাকলেও নিজে উচ্চশিক্ষার চৌকাঠ পেরোতে পারেননি।

১৯৯৩ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাসের পরের বছরে কেন তিনি করেসপন্ডেন্স কোর্সে বিকমে ভর্তি হয়েছিলেন, তা নিয়েও অনেকের প্রশ্ন রয়েছে। তাহলে কি খারাপ নম্বরের জন্যই কোনো কলেজে ভর্তির সুযোগ পাননি শিক্ষামন্ত্রী? আবার তিনি আদৌ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন কি-না, তা নিয়েও সন্দিহান অনেকে। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এমন কোনো নথি আদালতে দেখাতে পারেনি।

রাহুল কাল যে পথে মিছিল নিয়ে মনোনয়ন জমা দিতে গিয়েছিলেন, ইরানি এ দিন সে পথেই মিছিল নিয়ে যান। তবে খোদ যোগীর উপস্থিতি সত্ত্বেও সে মিছিল ধারে ভারে কংগ্রেস সভাপতির মিছিলের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। পাশের জেলা থেকে অনেক সংঘ ও বিজেপিকর্মীকে গেরুয়া পোশাক পরিয়ে মিছিলে হাজির করা হয়। নাচের দলও ভাড়া করে আনা হয়। যোগী দাবি করেন, হারের ভয়েই রাহুল এবার কেরলের ওয়েনাডেও প্রার্থী হয়েছেন। ইরানি দাবি করলেন, জেতার পরে রাহুল যতবার অমেঠীতে এসেছেন, তারচেয়ে বেশিবার এসেছেন তিনি। তাই জয় নিশ্চিত।

আবার গতকাল শুক্রবার রাহুলের দলে নাম লিখিয়েছেন ইরানির ছায়াসঙ্গী বিজেপি নেতা রবিদত্ত মিশ্র। সমাজবাদী পার্টির সাবেক মন্ত্রী রবিদত্ত বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে গত কয়েক বছর অমেঠীতে এসে তার বাড়িতেই উঠতেন স্মৃতি।

 

"