লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

‘হাওয়া’ বনাম ‘২০০৪’

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অসমের শিলচরে প্রচারে গিয়ে জনসভায় মোদি বলেন, ‘আজ (শুক্রবার) দেশের কিছু অংশে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ চলছে। লোকসভা নির্বাচনের প্রথম পর্বে ভোট পড়ল কার্যত পাঁচ বছর আগের মতোই। তার থেকে বেশি তো নয়ই। কোথাও কিছুটা কমই। কিন্তু সেই ভোট পড়ার হার দেখিয়েই নরেন্দ্র মোদি গতকাল শুক্রবার, এই প্রথম দাবি করলেন, দেশজুড়ে তার সরকারের পক্ষে ‘হাওয়া’ বইছে। রায়বরেলিতে মনোনয়ন জমা দিতে গিয়ে সনিয়া গান্ধী পাল্টা তাকে মনে করিয়ে দিলেন, ‘২০০৪-এ কথা ভুলবেন না। অটলবিহারী বাজপেয়ী নিজেকে অপরাজেয় ভেবেছিলেন। কিন্তু আমরা জিতেছিলাম।’ অসমের শিলচরে প্রচারে গিয়ে এ দিন জনসভায় মোদি বলেন, ‘আজ (শুক্রবার) দেশের কিছু অংশে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ চলছে। এখনো পর্যন্ত যা জানতে পারছি, ‘ফির একবার মোদি সরকার’-এর পক্ষে জবরদস্ত হাওয়া দেখা যাচ্ছে।’

মোদি যখন এই দাবি করছেন, তখনো দিনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়নি। সন্ধ্যায় ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচন কমিশন জানায়, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, ওড়িশার সন্ধ্যা পর্যন্ত হিসাব বলছে, সর্বত্রই ২০১৪-এর তুলনায় সামান্য হলেও কম হারে ভোট পড়েছে। বিহারে প্রথম দফায় ভোটের হার পাঁচ বছর আগের মতোই।

নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের আটটি আসনে ভোট পড়েছে ৬৩.৬৯ শতাংশ। ২০১৪-এ যা ছিল ৬৫ শতাংশ। ওড়িশায় ২০১৪-এর ৭৩.৬ শতাংশের তুলনায় এবার ৬৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। মহারাষ্ট্রের সাতটি লোকসভা আসনে ২০১৪-এর ৬৩ শতাংশের তুলনায় এবার ভোটের হার ৫৬ শতাংশ। বিহারের চারটি আসনে ২০১৪-এর মতো এবারও ৫০ শতাংশ ভোট পড়েছে। অসমে ৬৮ শতাংশ, ত্রিপুরায় ৮১.৮ শতাংশ, অন্ধ্রে ৬৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। চূড়ান্ত হিসাব এলে ভোটের হার কিছুটা বাড়তে পারে। উপনির্বাচন কমিশনার উমেশ সিনহা বলেন, ‘ভোট পড়েছে স্বাভাবিক হারেই। বেশিও নয়, কমও নয়।’ তাহলে কিসের ভিত্তিতে ‘মোদি হাওয়া’র দাবি?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার পরিবর্তনের তাগিদ থাকলেই সাধারণত বেশি হারে ভোট পড়ে। হয়তো তুলনায় কম হারে ভোট পড়ছে বলেই বিজেপি নেতৃত্ব ধরে নিচ্ছেন, তারাই ফের ক্ষমতায় আসতে চলেছেন। কিন্তু কোন রাজ্যে কোন দল ক্ষমতায় রয়েছে, তার ভিত্তিতেও ভোটের হার পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

এই আবহেই গতকাল শুক্রবার বহু দিন পরে মুখ খুলে সোনিয়া গান্ধী মনে করিয়ে দিয়েছেন, কংগ্রেস মোটেই নরেন্দ্র মোদিকে অপরাজেয় ভাবে না। তার সঙ্গে রাহুল গান্ধীর মন্তব্য, ‘ভারতের ইতিহাসে অনেকেই নিজেকে অপরাজেয় ভেবেছে। কিন্তু মানুষের থেকে কেউই বড় নন। নরেন্দ্র মোদি গত পাঁচ বছরে মানুষের জন্য কিছু করেননি। তাই তিনি অপরাজেয় কি-না, তা ভোটের ফলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।’ রাহুল গতকাল শুক্রবার ফের মোদিকে রাফাল দুর্নীতি নিয়ে বিতর্কে আসার জন্য চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছেন, এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে যেতেও রাজি। ২ কোটি চাকরি, ব্যাংকে ১৫ লাখ টাকা ও ‘অচ্ছে দিন’-এর প্রতিশ্রুতি না রাখার কথা মনে রেখে ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন রাহুল।

২০১৪-এর ‘মোদি হাওয়া’ যে এবারও রয়েছে, তা এত দিন পর্যন্ত কোনো বিজেপি নেতাই দাবি করেননি। বরঞ্চ দেশের নানা অংশে প্রচারে যাওয়া নেতাদের মত ছিল, এবারের ভোটে মানুষের মধ্যে তেমন তাপ-উত্তাপ নেই। কোথাও একটা তাগিদের অভাব। সেটা যেমন সরকার হঠানোর, তেমন এই সরকারকে ফিরিয়ে আনারও।

কিন্তু কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের দাবি, বিজেপিকর্মীরা ভোটের হার দেখে খুবই চাঙ্গা। সব কিছুই এনডিএ’র পক্ষে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে।

 

"