লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

সবচেয়ে বড় নির্বাচনের কয়েকটি দিক

প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্বের বৃহত্তম নির্বাচন হিসেবে পরিচিত ভারতের লোকসভা নির্বাচনের বাকি আছে আর মাত্র এক দিন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই নির্বাচনে প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে কয়েক পর্বে ভোটগ্রহণ করা হবে। লোকসভা নির্বাচনের আগে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশটির উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিষয় এনডিটিভির প্রতিবেদনে অনুযায়ী তুলে ধরা হলো :

বিশাল জনসংখ্যা : জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, ১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশ চীনের পর ১৩০ কোটি জনসংখ্যার ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনবহুল দেশ। সরকারি তথ্যানুযায়ী, ভারতের জনসংখ্যার প্রায় ৬৫ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। ২০২৪ সালের মধ্যে জনসংখ্যায় ভারত চীনকে ছাপিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। ভারতের প্রশাসনিক রাজধানী নয়াদিল্লি ও বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই, এই দুটি শহরেরই বাসিন্দার সংখ্যা ২ কোটিরও বেশি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৯০ কোটি। ভোটারের এই সংখ্যা এ নির্বাচনকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক যজ্ঞে পরিণত করেছে।

অর্থনৈতিক শক্তি : বিশ্বব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ সালে ভারত বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে এবং চলতি বছর ব্রিটেনকে পেছনে ঠেলে দিয়ে পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হবে বলে আভাস দিয়েছে। ২০১৯ সালে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এই প্রবৃদ্ধি আগের তুলনায় কম যা দেশটির কর্মক্ষম লোকজনের জন্য যথেষ্ট চাকরির যোগান দিতে ব্যর্থ হবে বলে বিশ্লেষকদের মত।

ফেব্রুয়ারিতে ফাঁস হওয়া সরকারি এক প্রতিবেদন দেখিয়েছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বেকারত্বের হার ৬ দশমিক ১ শতাংশ ছিল এবং যা গত ৪৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সরকারিভাবে এই প্রতিবেদন কখনোই প্রকাশ করা হয়নি। ভারতের মোট কর্মজীবীদের অর্ধেক কৃষি খাতে নিয়োজিত, কিন্তু চাকরির বাজার ক্রমেই পণ্য উৎপাদন ও সেবা খাতের দিকে সরে যাচ্ছে, এর মধ্যে আইটি আউটসোর্সিং প্রধান শিল্পে পরিণত হয়েছে।

এখনো কোটি কোটি মানুষ দরিদ্র : অর্থনৈতিকভাবে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও ভারতের কোটি কোটি মানুষ এখনো চরম দারিদ্রতার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। বিশ্বব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০১৫ সালে ভারতের ১৭ কোটি ৬০ লাখ লোক চরম দারিদ্র্যের মধ্যে ছিল, মাথাপিছু দৈনিক দুই ডলারেরও কম আয়ে তাদের জীবনধারণ করতে হতো। দেশটির মোট জনসংখ্যার অর্ধেক দারিদ্র্যসীমার নিচে আছে।

বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর আন্তর্জাতিক তালিকার শীর্ষে আছে ভারত : জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত ১৫টি শহরের মধ্যে ১৪টি ভারতে এবং নয়াদিল্লি বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত রাজধানী শহর।

সামরিক শক্তি : জনসংখ্যার ব্যাপক অংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকলেও ভারত এরই মধ্যে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য সামরিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ১৯৯৮ সালে দেশটি পারমাণবিক অস্ত্রশক্তি অর্জন করেছে। উল্লেখযোগ্য স্থল ও নৌশক্তির পাশাপাশি দেশটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতেও অগ্রগতি অর্জন করেছে। সম্প্রতি ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা শত্রুপক্ষের গোয়েন্দা উপগ্রহ ধ্বংস করার সক্ষমতাও অর্জন করেছে দেশটি।

চলচ্চিত্র ও ক্রিকেট : চলচ্চিত্র নির্মাণের সংখ্যা বিবেচনায় ভারত বিশ্বের বৃহত্তম চলচ্চিত্র শিল্পের দেশে পরিণত হয়েছে। এ শিল্প খাত থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, দেশটিতে প্রতি বছর ২০টির বেশি ভাষায় দেড় হাজার থেকে ২ হাজার চলচ্চিত্র নির্মিত হচ্ছে। ক্রিকেট দেশটির আরেকটি আবেগের নাম। আসছে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ভারতকে অন্যতম ফেভারেট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) যেকোনো খেলার অন্যতম সবচেয়ে সম্পদশালী লিগে পরিণত হয়েছে। গত বছর এই লিগ থেকে আয় ৬৩০ কোটি ডলার ছড়িয়ে গেছে।

 

"