নিজেকে মোদির বিকল্প বলছেন মায়াবতী

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উত্তরপ্রদেশের বিরোধী জোটের প্রথম সভায় দলিত নেত্রী মায়াবতী এই কৌশল নিয়েছেন মূলত দুটি কারণে। এক, নিজেকে মোদির বিকল্প হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বাসনা স্পষ্ট করে দেওয়া। যতটা ঝাঁজ দেখালেন নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে, ততটাই রাহুল গান্ধীর ক্ষেত্রে। ছাড়লেন না প্রিয়াঙ্কাকেও। ফারাক এটুকুই যে, মোদির নাম নিলেন, রাহুল-প্রিয়াঙ্কার নিলেন না।

দুই, উত্তরপ্রদেশে রাহুলের আক্রমণাত্মক অবস্থানে যাতে ভোট ভাগাভাগি না হয়, তা নিশ্চিত করা। যদিও সে কাজটি করতে গিয়ে সরাসরি মুসলিম ভোট ভাগ না হওয়ার ‘বিতর্কিত’ আবেদন করে বসলেন বহেনজি।

দেওবন্দের মঞ্চে প্রথমবার উঠলেন উত্তরপ্রদেশের বিরোধী জোটের তিন নেতা মায়াবতী, অখিলেশ যাদব এবং অজিত চৌধরি। তিনজনের এমন ১১টি সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে এরই মধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধান বক্তা হয়েও প্রথমেই কথা বলেন মায়াবতী। পরতে পরতে বিঁধলেন মোদীকে। ৪০ মিনিটে অন্তত দুই ডজনবার তুলোধোনা করলেন কংগ্রেসকে। বার্তা দিলেন, মোদির বিকল্প কংগ্রেস নয়, তিনি নিজে।

বিএসপি নেত্রীর চাপে অখিলেশকেও বলতে হলো, ‘যাহা কংগ্রেস, তাহাই বিজেপি। দেশে বদল আনতেই আমাদের জোট। কিন্তু কংগ্রেস বদল চায় না। উত্তরপ্রদেশে দল তৈরি করতে চায়। এদের চিনে নিন।’ আবার একইসঙ্গে কতকটা দুই কূল রেখেই এসপি নেতা বললেন, ‘এবারের ভোট ‘নতুন প্রধানমন্ত্রী’ তৈরি করার। গতবার যিনি চা-ওয়ালা সেজে এসেছিলেন, তিনি এখন উত্তরপ্রদেশে ধর্মের চৌকিদার সেজে এসেছেন। কিন্তু দলিত-কৃষক-সংখ্যালঘুরা চৌকিদারের চৌকি ছিনিয়ে নেবেন। আফসোস, কুম্ভে স্নানের সময়ে তার ৫৬ ইঞ্চির ছাতির দর্শন হলো না।’ অখিলেশ যাওবা কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দুই কথা বললেন, অজিত সিংহ কিছুই বললেন না।

কিন্তু মায়া অপ্রতিরোধ্য। তিনি মোদির ‘চৌকিদারি’কে নাটকবাজি বললেন। আবার প্রিয়াঙ্কার নাম না করে তার গঙ্গায় নৌকাযাত্রা, মন্দির-মসজিদে ঘোরাকেও ‘নাটকবাজি’ আখ্যা দিলেন। একইভাবে গত ভোটের আগে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট-পিছু মোদির ১৫ লাখ টাকা দেওয়ার ফাঁপা প্রতিশ্রুতির সঙ্গে এক পঙক্তিতে বসালেন রাহুলের ‘ন্যায়’ প্রকল্পকে। বললেন, ‘কংগ্রেসের মুখিয়া অতি গরিবকে মাসে ৬ হাজারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেটি দারিদ্র্য দূর করার স্থায়ী সমাধান নয়। এর আগে তার ঠাকুমা ইন্দিরা গান্ধীও ‘গরিবি হটাও’-এর নামে ২০ দফা কর্মসূচির নাটকবাজি করেছিলেন। সব মন ভোলানো।’

মায়া ইস্তাহার প্রকাশ করেন না। কিন্তু কতকটা রাহুলের চাপেই আজ ঘোষণা করলেন, ‘বিজেপি-কংগ্রেসের মতো লোভ দেখাব না। কেন্দ্রে আমরা সরকার গড়ার সুযোগ পেলে অতি গরিবকে ৬ হাজার টাকার বদলে সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে স্থায়ী রোজগারের ব্যবস্থা করব।’

"