বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে অন্তর্ঘাত বলছে ভেনিজুয়েলা

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দেশজুড়ে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে অন্তর্ঘাত হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ভেনিজুয়েলা। এ ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত দেশটির স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুইদোকে দায়ী করছে কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে মঙ্গলবার ভেনিজুয়েলার অ্যাটর্নি জেনারেল তারেক উইলিয়াম সাব জানিয়েছেন, এ ঘটনায় গুইদোর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রতিবাদে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী ব্যাপক গণবিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন গুইদো।

নির্বাচনি কারচুপির অভিযোগ আর অর্থনৈতিক সংকট ভেনিজুয়েলার জনগণকে তাড়িত করেছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে। বিক্ষোভের সুযোগে গত ২৩ জানুয়ারি নিজেকে অন্তর্র্বতীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুইদো। এরপরই তাকে স্বীকৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্রসহ ৫০টিরও বেশি দেশ। এরপর দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি শোডাউনের মধ্যেই গত ৮ মার্চ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ভেনিজুয়েলার অর্ধেকেরও বেশি এলাকা। দেশটির ২৩টির মধ্যে ১৮টি রাজ্যেই অন্ধকারে কাটাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সরকারবিরোধীরা এই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।

মঙ্গলবার টানা ষষ্ঠ দিনের মতো বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, ব্যাংক, ক্রেডিট কার্ডের মতো বিষয়গুলোও ব্যবহার করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। অব্যাহত বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। এমন পরিস্থিতিতেই গুইদোর বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা দেন দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল।

এর আগে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকারবিরোধীরা রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে তান্ডব চালিয়ে সেটি বিনষ্ট করে দিয়েছে। টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, খাবার নেই, ওষুধ নেই, এখন বিদ্যুৎও নেই। তারপর মাদুরোও থাকবে না। আর হুয়ান গুইদোর দাবি, মাদুরো ক্ষমতা থেকে অপসারিত হলে আলো ফিরবে।

এদিকে বিদ্যুৎবিহীন অন্ধকারে ভেনিজুয়েলায় বাড়ছে লুটপাটের মতো ঘটনা। বন্ধ হয়ে গেছে সুপার মার্কেটগুলো। সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছে নিজেদের হতাশার কথা জানিয়েছেন দেশটির নাগরিকরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সোমবার দেশজুড়ে স্কুল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গুইদোর দাবি, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে এ পর্যন্ত অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

"