এখন যা করতে পারে ব্রিটেন

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ব্রেক্সিট ইস্যুতে দ্বিতীয় দফায় হেরে গেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দীর্ঘ দেন দরবার শেষ করে জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার খসড়া চুক্তি চূড়ান্ত করেছিলেন তিনি। এর প্রতি সমর্থন আদায়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তা সংসদে পেশ করা হলে ১৪৯ ভোটের বিশাল ব্যবধানে হেরে যান মে।

এর আগে গত জানুয়ারিতেও প্রথম চেষ্টায় চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছিলেন মে। তার প্রস্তাব দ্বিতীয় দফায় ভেস্তে যাওয়ার পর, ব্রিটেনের অর্থনীতিতে এর কী প্রভাব পড়বে জানতে চাইলে ব্রিটেনের সোয়ানসি ইউনিভার্সিটির শিক্ষক রোযেন আযাদ চৌধুরী বিবিসিকে বলেন, এটা নির্ভর করবে ব্রিটেন কোনও চুক্তি নিয়ে বেরোতে চায় কি-না তার ওপর। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার আরেক দফা ভোট হবে।

পুরো বিষয়টি এখন নির্ভর করবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর। তিনি বলেন, সামনে ইইউর পার্লামেন্ট নির্বাচন। তারা হয়তো দুই বছরের জন্য সময় দেবে। বাজারে প্রচন্ড অনিশ্চয়তা দেখা দেবে। দেখবেন যে, আজই ডলার ও ইউরোর বিপরীতে পাউন্ডের ব্যাপক পতন দেখা দিতে পারে। যুক্তরাজ্যে বিনিয়োগ গত এক বছরে অনেক কমে গেছে। অনিশ্চয়তা যদি আরও বিরাজ করে অর্থনীতির জন্য সেটা খুবই খারাপ অবস্থা হবে। এক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে রোযেন আজাদ চৌধুরী বলেন, কোনও চুক্তি নিয়ে যদি না বের হয়, তাহলে যুক্তরাজ্যের জিডিপি ৮ শতাংশ নেমে যাবে।

এ ক্ষেত্রে ব্রিটেন যেসব পদক্ষেপ নিতে পারে-

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে গেলে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে বসবাসরত ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য ব্রিটেন একটি সুবিধাজনক চুক্তি করতে চাইছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে ব্রিটিশ ব্যবসায়ী ও কোম্পানিগুলো কী ধরনের সুবিধা পাবে সেটাও একটা বিষয়। ব্রিটেন কোনো চুক্তি চায় কিনা সেটা জানা যাবে ১৩ মার্চের পর।

খুব ছোট কয়েকটি দেশের সঙ্গেই বাণিজ্যিক চুক্তি হচ্ছে। জাপানের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য চুক্তি এখনো হয়নি। লোকজনের কাছে সব খবর যথাযথভাবে পৌঁছালে তখন লোকজন যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করতে পারবে। তখন হয়তো তারা এটাও বলতে পারে যে, আমরা ব্রেক্সিট চাইনা।

প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে দ্বিতীয় দফায় হেরে গেলেও সবচেয়ে সাদাসিধে উপায় হবে হয়তো হাউস অব কমন্সে তার খসড়া চুক্তিটি আরেক দফা ভোটাভুটিতে নিয়ে যাওয়া। দু-দফা হারলেও তৃতীয় দফায় পেশ করা যাবে না এমন কোনো আইন নেই। ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে সরকার একেবারে নতুন করে আলোচনার প্রস্তাব দিতে পারে এবং সেটা হয়তো সময়সাপেক্ষ হবে।

পুনরায় আলোচনা না হলেও হয়তো আবারও গণভোটের আয়োজন করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে। নতুন করে গণভোটের জন্য আইনে নতুন সংযোজন প্রয়োজন হবে এবং কারা ভোটার হতে পারবে সেটা নির্ধারণ করতে হবে।

 

 

"