পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা চান মোদির মিত্ররাও

প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আত্মঘাতী হামলায় সেনা নিহত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে তা কমাতে ভারতের উচিত পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করা। ভারত সরকারের প্রতি এমন আহ্বান জানিয়েছেন কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) একসময়ের শরিক মেহবুবা মুফতি।

মেহবুবা মুফতি ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ২০১৪ সালের প্রথম থেকে গত বছরের জুন পর্যন্ত তিনি মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু জুনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি তার ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারান তিনি।

মেহবুবা মুফতি গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমি মনে করি পাকিস্তানের সঙ্গে গোপনে ও প্রকাশ্যে আলোচনা করার একটা প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত। এমনিতেই দিন দিন পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। যদি রাজনৈতিকভাবে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু না করা যায় তাহলে সেটা আরো খারাপের দিকে যাবে।’

গত মাসে কাশ্মীরের পুলওয়ামাতে আত্মঘাতী হামলায় ভারতের আধা সামরিক বাহিনীর অন্তত ৪০ জওয়ান নিহত হওয়ার পর দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয় যদি অস্ত্র সমর্পণ না করে তাহলে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যগুলোতে থাকা সমস্ত জঙ্গিকে হত্যা করা হবে।

কাশ্মীরের ওই হামলা পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তানকে যুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকে ভারত-পাকিস্তান উভয় দেশ হিমালয়ের পাশে অবস্থিত বিতর্কিত কাশ্মীর অঞ্চলের পূর্ণ মালিকানা দাবি করে আসছে। তারপর থেকে দুই দেশের মধ্যে বিরোধপূর্ণ ওই অঞ্চল নিয়ে একবার যুদ্ধ ও বেশ কয়েকবার যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় বসার ব্যাপারে সব সময় অনাগ্রহ দেখা যায়। দেশটির দাবি, পাকিস্তান যদি তাদের দেশে বসবাসরত জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নেয় তাহলে আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না। কাশ্মীর হামলার পর ভারতীয় বিমনাবাহিনী সীমান্ত পার হয়ে পাকিস্তানে থাকা জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করার দাবি করে। পাকিস্তানও পরদিন পাল্টা বিমান হামলা করে।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিজয় গোখলে হামলার দিন বলেন, পাকিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে থাকা কাশ্মীর হামলার দায় স্বীকারকারী সশস্ত্র সংগঠন জইশ-ই-মুহাম্মদের অনেক সদস্যকে হত্যা করেছে তারা। কিন্তু পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভারতের হামলায় কয়েকটি গাছের ক্ষয়ক্ষতি হলেও কেউ হতাহত হয়নি।

 

"