‘স্থল হামলার আশঙ্কায় ছিল পাকিস্তান : চালিয়েছি বিমান হামলা’

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দাবি, পুলওয়ামা হামলার জবাবে দিল্লি স্থল অভিযান চালাবে বলে ভেবে রেখেছিল পাকিস্তান। তবে দিল্লি তাদের সেই হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছে। স্থল অভিযান না চালিয়ে বালাকোটে বিমান হামলার মাধ্যমে জবাব দিয়েছে ভারত। গত শনিবার এক নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নিয়ে নরেন্দ্র মোদি এসব দাবি করেন।

কাশ্মীরে ১৪ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) জইশ ই মোহাম্মদের আত্মস্বীকৃত আত্মঘাতী হামলায় পাকিস্তানকে দায়ী করে ২৬ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) ভোর সাড়ে ৩টা নাগাদ ১২টি মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমান নিয়ে পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকে পড়ে ভারত। তাদের দাবি, ওইদিন পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটি লক্ষ্য করে লেজার নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার সাহায্যে ১০০০ কেজি বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) পররাষ্ট্র সচিব বিজয় গোখলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, ‘বালাকোটে জইশের সবথেকে বড় জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করেছে ভারত। জইশ-এ-মোহাম্মদের বহু জঙ্গি, সিনিয়র কমান্ডার, প্রশিক্ষক নিহত হয়েছে।’ তবে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বিভাগের বিবৃতিতে ভারতের দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলা হয়, ‘আরো একবার ভারত সরকার স্বার্থপরতা ও কল্পনাপ্রসূত দাবি করেছে। এটা সামনের নির্বাচনে জনপ্রিয়তা পাওয়ার আশায় তাদের অভ্যন্তরীণ কৌশল। আর এতে করে পুরো অঞ্চলেরই শান্তি ও স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।’

শনিবার (৯ মার্চ) উত্তর প্রদেশের গ্রেটার নয়ডার নলেজ পার্কে দীনদয়াল উপাধ্যায় ইনস্টিটিউট অব আর্কিওলজির ক্যাম্পাসে এক নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দেন মোদি। সেখানেও আসে বালাকোটে জইশ এর ঘাঁটিতে বিমান হামলার প্রসঙ্গ। দাবি করেন, পাকিস্তান স্থল হামলা ঠেকানোর প্রস্তুতি নিয়ে রাখলেও ভারত বিমান হামলার মাধ্যমে জবাব দিয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন ‘তারা মনে করছিল যে গতবার (২০১৬ সালে উরি হামলার পর) মোদি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়েছিলেন, এবারও তাই হবে। এ ভেবে তারা (পাকিস্তান) নিয়ন্ত্রণরেখায় ট্যাংকসহ সব সরঞ্জাম সাজিয়ে রেখেছিল।’ সমাবেশে উপস্থিতদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে মোদি বলেন, ‘আর আমরা কী করেছিলাম?’

জঙ্গিরা নিজেদের মতো করেই জবাব পেয়েছে বলে দাবি করেন মোদি। তিনি বলেন, ওইদিন ভোর ৫টার দিকে পাকিস্তান এতটাই ভয় পেয়েছিল যে তারা বিশ্বকে জানিয়েছে, ভারতীয় বাহিনী তাদের ওপর আক্রমণ করেছে। তারা বলতে শুরু করেছিল, ‘মোদি আমাদের ওপর আক্রমণ করেছে’। বিশ্বকে তারাই জানিয়েছে, আমরা নই।

উল্লেখ্য, কাশ্মীরের উরি সেনাঘাঁটিতে ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর জঙ্গি হামলায় ১৯ ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার ১০ দিনের মাথায় দেশটির সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক প্রসঙ্গ। নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন জঙ্গি ঘাঁটিগুলোতে ভারত সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়েছে বলে মোদি সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। তবে একে সীমান্ত সংঘর্ষ উল্লেখ করে পাকিস্তান তখন দাবি করেছিল, ভারত গ্রেফ নিজেদের দম্ভ প্রচার করার জন্য একে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ বলছে। সার্জিক্যাল স্ট্রাইক দিয়ে এমন সামরিক অভিযানকে বোঝানো হয়, যে অভিযানে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর বাইরে আশপাশের অবকাঠামো কিংবা জনসাধারণ হামলার শিকার হয় না বলে দাবি করা হয়। আর সীমান্ত সংঘর্ষ হলো আন্তঃসীমান্ত গোলাগুলির ঘটনা।

 

"