ওপেককে পাশে চায় ভেনিজুয়েলা

প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ama ami

ভেনিজুয়েলার তেল খাতের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ওপেকের সহায়তা চেয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নিকোলাস মাদুরো। বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং তেল উৎপাদনকারী অন্য দেশগুলোর ঝুঁকি নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারি ওপেক মহাসচিব মোহাম্মদ বারকিন্দোকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেন মাদুরো। সেই চিঠির কপি হাতে পেয়েছে রয়টার্স। তবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ওপেকের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংস্থাটি এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ’র ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর দিনই ওপেকের কাছে এ চিঠি পাঠানো হয়। তবে ওপেক বলছে, তাদের উদ্বেগ তেল নীতি নিয়ে, রাজনীতি নিয়ে নয়।

চিঠিতে মাদুরো বলেন, ভেনিজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনধিকার চর্চার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ওপেক সদস্য দেশগুলোর একাত্মতা ও পূর্ণ সমর্থন আশা করছে কারাকাস। একটি ওপেক সদস্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ রক্ষায় আপনার দৃঢ় সমর্থন এবং সহযোগিতা কামনা করছি।

চিঠিতে ভেনিজুয়েলার তেল খাতের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে নিন্দা জানাতে ওপেকের প্রতি আহ্বান জানান মাদুরো। তিনি বলেন, সদস্য দেশগুলোর ঝুঁকি মোকাবিলায় সংস্থাটিকে এগিয়ে আসা উচিত।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের বদলে রাশিয়ার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে ভেনিজুয়েলা। এর অংশ হিসেবে এরই মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ’র পক্ষ থেকে ক্রেতাদের রাশিয়ার একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নাম্বার সরবরাহ করা হয়েছে। ওই অ্যাকাউন্টেই তেল কেনার অর্থ জমা দিতে বলা হয়েছে তাদের। প্রতিষ্ঠানটির জয়েন্ট ভেঞ্চারগুলোও একই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার গ্যাজপ্রমব্যাংক এও-তে সম্প্রতি নতুন এই অ্যাকাউন্টটি খোলা হয়েছে। এর আগে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভেনিজুয়েলায় হস্তক্ষেপ না করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এমন পরিস্থিতিতে দৃশ্যত দেশটিকে কেন্দ্র করে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলো। বিদ্যমান ঘটনাপ্রবাহকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী কোল্ড ওয়ার বা স্নায়ুযুদ্ধের ছায়া হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ।

ভেনিজুয়েলায় মাদুরোবিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক : খাদ্য ও ওষুধ ঘাটতিতে জর্জরিত ভেনিজুয়েলায় মানবিক সাহায্য প্রবেশে অনুমতি দিতে ও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর চাপ বাড়াতে ভেনিজুয়েলাজুড়ে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে বিরোধীরা। নিজেকে দেশটির ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ দাবি করা হুয়ান গুইদো মঙ্গলবার দেশজুড়ে সরকারবিরোধী সমাবেশে জড়ো হতে সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। অপরদিকে দুই দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা বামপন্থীরাও মঙ্গলবার ‘পিতৃভূমির সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা’ দেখাতে রাস্তায় থাকার ঘোষণা দিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। উভয় পক্ষের এই মুখোমুখি অবস্থানে দেশটিতে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা পর্যবেক্ষকদের। গত বছর অনুষ্ঠিত আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট মাদুরো। কিন্তু ওই নির্বাচনকে ‘কলঙ্কিত, অবৈধ’ অ্যাখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির বিরোধীদলগুলো। জানুয়ারিতে মাদুরো দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেওয়ার পর সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। এক পর্যায়ে সরকারবিরোধী এক সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুইদো নিজেকে ‘অন্তর্র্বর্তী প্রেসিডেন্ট’ ঘোষণা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশিরভাগ পশ্চিমা দেশ গুইদোকে স্বীকৃতি দিলেও বিশ্বের দুই প্রভাবশালী দেশ রাশিয়া ও চীন মাদুরোকে অব্যাহত সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। সামরিক বাহিনীসহ ভেনিজুয়েলার বেশিরভাগ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এখনও পর্যন্ত মাদুরোরই নিয়ন্ত্রণেই আছে।

মাদুরোর অদক্ষতার কারণে ওপেকভুক্ত দেশটির অর্থনীতি তলানিতে পৌঁছেছে দাবি করে সাধারণ মানুষের জন্য ত্রাণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে বিরোধীরা। পশ্চিমা দেশগুলোর পাঠানো এ ত্রাণসামগ্রীর তত্ত্বাবধান করছেন ৩৫ বছর বয়সী গুইদো।

ভেনিজুয়েলায় ‘ত্রাণ পাঠানোর’ মতো সংকট দেখা দেয়নি বলে দাবি করেছেন মাদুরো। এ সাহায্য পাঠানোর ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সাজানো নাটক’ অ্যাখ্যা দিয়ে এর প্রবেশাধিকারও আটকে দিয়েছেন তিনি।

এর বিরোধিতা করে সোমবার টুইটারে নিজের সাড়ে ১২ লাখ অনুসারীর উদ্দেশ্যে গুইদো লিখেছেন, মানবিক ত্রাণ সাহায্যের প্রবেশাধিকারের দাবি নিয়ে আমরা ফের রাস্তায় ফিরবো; এই সাহায্য মৃত্যুর ঝুঁকিতে থাকা তিন লাখেরও বেশি ভেনিজুয়েলাবাসীকে রক্ষা করবে। এখনই সময় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার, লড়াই করার। মাদুরোকে পদত্যাগে বাধ্য করে নতুন একটি নির্বাচন আদায়েরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

শিশু ও গর্ভবতী নারীদের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদানসহ মানবিক ত্রাণসাহায্যের প্রথম চালান ভেনিজুয়েলার স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর নেটওয়ার্কের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও সোমবার জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় এ নেতা। যদিও ত্রাণসামগ্রী কীভাবে ভেনিজুয়েলায় ঢুকবে তা খোলাসা করেননি তিনি।

ত্রাণসামগ্রী ভেনিজুয়েলায় ঢোকাতে সেনাবাহিনীকে মাদুরোর নির্দেশ অমান্য করারও অনুরোধ করেছেন গুইদো। এ ধরনের কিছু ঘটলে তা দেশটিতে পালাবদলের সূচনা করবে বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের। যদিও এমনটা যে ঘটবেই, তার বিন্দুমাত্র ইঙ্গিতও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

"