বোনের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিরোধিতায় থাই রাজা

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে বোনের প্রধানমন্ত্রীত্বের লড়াইয়ে নামার চেষ্টা ‘অনুচিত’ এবং অসাংবিধানিক বলে মন্তব্য করেছেন থাইল্যান্ডের রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ন। রাজার বোন প্রিন্সেস উবোরাতানা শুক্রবার দেশের প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে ব্যতিক্রমী নজির সৃষ্টি করেন। ৬৭ বছর বয়সী উবোরাতানা রাজকন্যা সিরিভাধানা বার্নাভাদি বর্তমান থাই রাজা মাহা ভাজিরালংকর্নের বড় বোন এবং প্রয়াত রাজা ভূমিবল আদুলিয়াদেজের প্রথম সন্তান।

নির্বাসিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার অনুগত দলের একজন প্রার্থী হিসেবে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। কিন্তু তার এ পদক্ষেপে থাই রাজপরিবারের রাজনীতির বাইরে থাকার প্রথা ভঙ্গ হবে। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য অনুযায়ী থাই রাজপরিবার রাজনীতির বাইরেই থাকে। আগামী ২৪ মার্চ থাইল্যান্ডে জাতীয় নির্বাচন। থাই রাজার আপত্তির কারণে এখন নির্বাচন কমিশন উবোরাতানাকে নির্বাচনে দাঁড়ানোর অযোগ্য ঘোষণা করতে পারে।

রাজপ্রাসাদ থেকে এক বিবৃতিতে রাজা বলেছেন, রাজপরিবারের উচ্চপদস্থ সদস্যের রাজনীতিতে জড়িত হওয়া তা যেভাবেই হোক না কেন তা দেশের ঐতিহ্য, প্রথা এবং সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আর সে কারণেই এ ধরনের কিছু করা একেবারেই ঠিক নয়।

রাজার বিরোধিতার জবাব দিলেন থাই রাজকন্যা

থাই রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ণ বিরোধিতা করলেও রাজকন্যা সিরিভাধানা বার্নাভাদি নিজের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থিতার সিদ্ধান্তকে যথার্থই মনে করছেন। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, সব ধরনের রাজমর্যাদা ত্যাগ করে তিনি এখন সাধারণ নাগরিকের মতো জীবন যাপন করেন। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হয়ে নিজের অধিকারের চর্চা করতে চান তিনি।

১৯৫১ সালে জন্ম নেওয়া উবোরাতানা রাজকন্যা সিরিভাধানা বার্নাভাদি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির গ্রাজুয়েট। ১৯৭২ সালে এক আমেরিকান নাগরিককে বিয়ে করেন তিনি। বিদেশিকে বিয়ে করে রাজমর্যাদা ত্যাগ করেন। তবে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ২০০১ সালে থাইল্যান্ডে ফিরে তিনি রাজকীয় যাপনে অংশ নিতে শুরু করেন। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী পদে তিনি নিজের প্রার্থীতা ঘোষণা করলে থাই রাজপ্রাসাদের বিবৃতিতে রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ন বলেন, লিখিতভাবে পদমর্যাদা ত্যাগ করলেও তিনি (রাজকন্যা) এখনো রাজমর্যাদা ভোগ করেন এবং রাজপরিচয় বহন করেন।

বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করা রাজকন্যা সিরিভাধানা বার্নাভাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয়। থাই রাজপ্রাসাদের বিবৃতির জবাবে ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রিত্ব পদে প্রার্থী হয়ে একজন সাধারণ নাগরিকের মতোই তার অধিকারের চর্চা করতে চান তিনি। রাজকন্যা বলেন তিনি দায়িত্ব নিলে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন এবং তিনি থাইল্যান্ডের সব নাগরিকের সমৃদ্ধির প্রতি প্রতিশ্রুতিশীল থাকবেন।

গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে সামরিক অভ্যুত্থানে ২০১৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত করার পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চ্যান ওচার অধীনে এবারই প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। থাকসিন সিনাওয়াত্রার ছোট বোন ছিলেন ইংলাক সিনাওয়াত্রা। বতর্মানে দুজনই এখনো স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকলেও থাই রাজনীতিতে তাদের প্রভাব রয়ে গেছে। দেশের অনেকেই এখনো তাদের অনুগত। এমন পরিস্থিতে তাদের ঘনিষ্ঠ একটি দলের হয়েই নির্বাচন করতে নামার ঘোষণা দিয়েছেন রাজকন্যা সিরিভাধানা বার্নাভাদি।

থাইল্যান্ডের রাজতন্ত্র অবমাননা আইন বেশ কঠোর। তবে কৌশলগতভাবে ‘লেস ম্যাজেস্টি’ নামের ওই আইনের আওতায় পড়েন না রাজকন্যা সিরিভাধানা বার্নাভাদি। তা সত্ত্বেও থাইল্যান্ডে রাজপরিবারের সমালোচনা বেশ বিরল। দেশটিতে রাজপরিবারকে সম্মানের চোখে দেখা হয়। সে কারণে রাজার বিরোধিতায় তিনি প্রার্থিতার অযোগ্য ঘোষিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

"