বাগদাদির বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা!

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ama ami

অভ্যন্তরীণভাবে পরিচালিত একটি অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা থেকে বেঁচে গেছেন মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের প্রধান আবু বকর আল বাগদাদি। আঞ্চলিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দাবি, গত মাসে সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে বাগদাদির আস্তানায় আইএসের বিদেশি যোদ্ধারাই তাকে উৎখাতের এ প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। পরে দুই পক্ষের বন্দুকযুদ্ধে সে উৎখাত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। এরই মধ্যে ওই ঘটনার ‘মূল হোতার’ মাথার দাম ঘোষণা করেছে আইএস। বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।

২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ার কিছু অংশ দখল করার পর বিশ্বের মুসলিমদের শাসক হিসেবে নিজেকে ঘোষণা করেন বাগদাদি। ধারণা করা হয়, আইএসের স্বঘোষিত খিলাফতের পতনের পর এখন তিনি ইরাক-সিরিয়া সীমান্তে আত্মগোপনে আছেন। লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা আইএস নেতা বাগদাদি ২০১৪ সালে একবারই নিজের ছবি তুলতে দিয়েছিলেন। বাগদাদি সম্পর্কে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকমের গুজব উঠতে দেখা গেছে। কখনও দাবি করা হয়েছে তিনি মারা গেছেন, কখনও বলা হয়েছে তিনি ধরা পড়েছেন আবার কখনও দাবি করা হয়েছে বাগদাদি মারাত্মকভাবে আহত। কখনওবা সিরীয় বাহিনীর হাতে আটক হওয়া আবার কখনও তাকে বিষ খাইয়ে দেওয়ার গুজবও শোনা গেছে। ২০১৭ সালের জুনে বাগদাদির মৃত্যুর খবরকে ‘শতভাগ নিশ্চিত’ দাবি করেছিলেন রাশিয়ার কর্মকর্তারা। এর এক বছর পর এক অডিও বার্তা দিয়ে বাগদাদি জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি বেঁচে আছেন।

এবার আঞ্চলিক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, সম্প্রতি বাগদাদির বিরুদ্ধে নিজ সংগঠনের অভ্যন্তর থেকেই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। তবে তা নস্যাৎ করে দেওয়া হয়। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দাবি, ইউফ্রেটিস নদী উপত্যকায় হাজিন গ্রামের কাছে ১০ জানুয়ারি এ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার আভাস পেয়ে বাগদাদির দেহরক্ষীরা তাকে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করে। দেহরক্ষীদের সঙ্গে বিদেশি যোদ্ধাদের বন্দুকযুদ্ধ হয় এবং অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।

প্রভাবশালী বিদেশি যোদ্ধা আবু মুয়াথ আল জাজাইরিকে হত্যার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছে আইএস। হাজিন এলাকায় বসবাসরত ৫০০ আইএস যোদ্ধারই একজন জাজাইরি। আইএস সরাসরি জাজাইরিকে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় অভিযুক্ত করেনি। তবে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সদস্যের মাথার দাম ঘোষণার ঘটনা বিরল। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, জাজাইরি ওই ঘটনার মূল হোতা।

এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা গার্ডিয়ানকে বলেন, সময়মতোই তারা আভাস পেয়ে গিয়েছিল। তাদের মধ্যে সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়। এটি কিছু বিদেশি যোদ্ধার কাজ, তারই আস্থাভাজনদের কয়েকজন এরা।

 

"