সিরিয়া থেকে প্রতিটি ইরানি সেনাকে তাড়াব : যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সিরিয়া থেকে সব ইরানি সেনা তাড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

গত বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্ররা পিছু ধাওয়া করে সিরিয়া থেকে ‘প্রতিটি ইরানি সেনাকে’ হটিয়ে দেবে। একটি সেনাও আর অবশিষ্ট থাকবে না। সতর্ক করে দিয়ে পম্পেও বলেন, সিরিয়ায় ইরান এবং তাদের প্রক্সিদাতারা বিতাড়িত না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র পুনর্গঠনের জন্য কোনো সাহায্য দেবে না।

‘যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক পন্থায় এবং মিত্রদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সিরিয়া থেকে শেষ ইরানি সেনাটিকেও তাড়িয়ে দেবে এবং দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে থাকা জনগণের জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাবে’ বলেন পম্পেও। মিসরের রাজধানী কায়রো সফরকালে পম্পেও কথাগুলো বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার তিন সপ্তাহ পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ৯ দিনের সফর শুরু করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ট্রাম্পের সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মিত্রদেশই উদ্বিগ্ন হয়েছে। ওয়াশিংটনেও তার সিদ্ধান্তের সমালোচনা হয়েছে। তাই সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরব মিত্র দেশগুলোর দ্বন্দ্ব ও উদ্বেগ দূর করে তাদের নতুন করে আশ্বস্ত করতেই মধ্যপ্রাচ্যে পম্পেওর এ সফর। ট্রাম্প প্রশাসন যে অঞ্চলটি থেকে সরে যাচ্ছে না সে আশ্বাসই দিচ্ছেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য পম্পেও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মধ্যপ্রাচ্য নীতিরও তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার প্রশাসন জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) ঠিকভাবে মোকবিলা করতে পারেনি বলেই অভিমত তার। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে রাশিয়ার পাশাপাশি ইরানও। তারা সেখানে অস্ত্র সরবরাহ করাসহ সামরিক উপদেষ্টা এবং লড়াইয়ের জন্য সেনা পাঠিয়েও সহায়তা করছে।

যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের তৎপরতাকে সন্দেহের চোখেই দেখে। ইরান ওই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে চাইছে বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। তা ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দুই ঘোর শত্রু দেশ ইসরায়েল এবং সৌদি আরবেরও মিত্র। গত বৃহস্পতিবার পম্পেও বলেন, এ অঞ্চলসহ গোটা বিশ্বে ইরানের অনিষ্টকর প্রভাব এবং কর্মকান্ড থামাতে আমরা আমাদের অভিযানে মোটেও ঢিলেমি করব না। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং এ নিষেধাজ্ঞা আরো কঠোর হতে থাকবে বলেও জানিয়েছেন পম্পেও।

"