আচমকা চীন সফরে কিম ট্রাম্প-কিম বৈঠকের ইঙ্গিত?

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ama ami

এক অঘোষিত সফরে গতকাল মঙ্গলবার চীনে পৌঁছেছেন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন। ওয়াশিংটন ও সৌলের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের প্রস্তুতি হিসেবেই তিনি এই সফর করছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।

গত বছর জুন মাসে সিঙ্গাপুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এক ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হলেও এখনো পর্যন্ত তার কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। নতুন করে কোনো পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা না করলেও উত্তর কোরিয়া পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের পথে অগ্রসর হয়নি। দুই পক্ষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে মতান্তর দূর হয়নি। এমন প্রেক্ষাপটে কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার লক্ষ্যে ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে দ্বিতীয় শীর্ষ বৈঠক নিয়ে জল্পনাকল্পনা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরও ওয়াশিংটন ও সৌলের সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগের আগে কিম বেইজিং সফর করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ মাধ্যম গত সোমবার রাতেই এই সফরের আঁচ পেয়েছিল। তারা জানিয়েছিল, একটি বিশেষ ট্রেন উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত অতিক্রম করে চীনে প্রবেশ করেছে। সম্ভবত ৩৫তম জন্মদিনেই কিম পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও প্রধান পরমাণু মধ্যস্থতাকারীকে সঙ্গে নিয়ে চীন সফর শুরু করেন।

গত বছর উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সম্পর্কের যথেষ্ট উন্নতি হলেও উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম যে বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ রয়েছেন, গত সপ্তাহে নববর্ষের ভাষণে তার আঁচ পাওয়া যায়। তাতে কিম পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ সম্পর্কে তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেও অ্যামেরিকা ‘নিষেধাজ্ঞা আঁকড়ে’ থাকলে তিনি ‘নতুন পথ’ নিতে পারেন বলে সতর্ক করে দেন। তবে শান্তির আশা এখনো ছাড়ছেন না কিম জং উন।

 

প্রথমে চীন, তারপর দক্ষিণ কোরিয়া সফর করে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওপর চাপ বাড়াতে চান বলে মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক। বিশেষ করে চীন ও অ্যামেরিকার মধ্যে বর্তমান বাণিজ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই সফর বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার কার্যত একমাত্র বাণিজ্যিক সহযোগী হিসেবে সে দেশের ওপর চীনের বিশেষ প্রভাব রয়েছে। ওয়াশিংটন তার কড়া অবস্থানে অটল থাকলে কিমের ওপর ট্রাম্পের প্রভাব কমে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এমন অবস্থায় বিভিন্ন বিষয়ে কোণঠাসা মার্কিন প্রেসিডেন্টও পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে বড় সাফল্যের হাতছানি উপেক্ষা করতে পারবেন না। আলোচনায় অগ্রগতি হলে ট্রাম্প এমনকি কিমকে হোয়াইট হাউসেও আমন্ত্রণের ইঙ্গিত দিয়েছেন। আপাতত ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয় তাদের দ্বিতীয় বৈঠকের স্থান হতে পারে বলে জল্পনাকল্পনা চলছে।

প্রায় ৬ বছর ধরে চীনের সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগ বন্ধ রাখার পর উত্তর কোরিয়ার নেতা গত বছর বেইজিং সফর করেন। সেটাই ছিল ক্ষমতায় আসার পর তার প্রথম বিদেশ সফর। তারপর দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ অনেক বাড়লেও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এখনো পিয়ং ইয়ং সফর করেননি। তবে এই সময়কালে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ নেতাদের মধ্যে তিনটি বৈঠক হয়েছে। নিজের প্রশাসনের স্থায়িত্ব ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে চীনের গ্যারেন্টি কিম জং উন-এর জন্য অত্যন্ত জরুরি।

"