জার্মানির ন্যূনতম বেতনধারীরাও দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পূর্ণকালীন শ্রমিকরা যাতে দরিদ্র হিসেবে গণ্য না হন, তেমন নিশ্চয়তা দিয়েই নির্ধারণ করা হয় ন্যূনতম বেতন। ইউরোপের বেশির ভাগ দেশই এই বিষয়টি নিশ্চিত করে। কিন্তু জার্মানিতে এই বেতন প্রায় দারিদ্র্যসীমার কাছাকাছি। জার্মানির ফুলটাইম শ্রমিকরা ন্যূনতম বেতন পান মাসিক ১,৫০০ ইউরো। পয়লা জানুয়ারির হিসাব অনুযায়ী, যেকোনো পূর্ণকালীন চাকরিজীবীকে ঘণ্টায় অন্তত ৯.১৯ ইউরো দিতেই হবে চাকরিদাতার। সেই হিসেবে লুক্সেমবার্গের মতো দেশেও জার্মানির চেয়ে ন্যূনতম বেতন বেশি। কিন্তু শুধুমাত্র টাকার অঙ্কে হিসাব করলে অন্য অনেক ইউরোপীয় দেশের তুলনায় এই দিক দিয়ে এগিয়ে আছে জার্মানি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২২ দেশের ন্যূনতম বেতন নিয়ে কাজ করেছে ডয়চে ভেলে। একইসঙ্গে বিবেচনায় রাখা হয়েছে, নানা ধরনের কর বাদ দিয়ে মাস শেষে ঠিক কি পরিমাণ অর্থ তারা নিজের কাছে রাখতে পারছেন। জার্মানিতে ২০১৯ সাল থেকে ন্যূনতম বেতন ৩৫ সেন্ট বাড়ানো হয়েছে। এর আগে প্রতি ঘণ্টায় বেতন ছিল ৮.৮৪ ইউরো। এই হারে কর ও সামাজিক অবদান বাদে মাস শেষে সন্তান ও পরিবারহীন কোনো ব্যক্তির হাতে থাকত ১১০.৫০ ইউরোর মতো। জার্মানির দারিদ্র্যসীমার চেয়ে এ পরিমাণ মাত্র ১৪.৫০ ইউরো বেশি।

একটি দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ যে বেতন পেয়ে থাকেন, তার ৬০ শতাংশও যেসব প্রাপ্তবয়স্ক পান না, ইউরোপীয় ইউনিয়নে তারা দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে আছেন বলে বিবেচনা করা হয়। এই সীমাকে মধ্যবর্তী সীমা হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। এই ঝুঁকি অবশ্য আপেক্ষিক। জার্মানিতে কাউকে দরিদ্র বলা মানে মধ্যবর্তী সীমার ওপরে যারা বেতন পেয়ে থাকেন, তাদের তুলনায় দরিদ্র বোঝানো হয়ে থাকে।

রোমানিয়ার মতো দেশের সঙ্গে তুলনা করলে অবশ্য জার্মান চাকরিজীবীরা মাস শেষে অনেক বেশি অর্থই বাসায় নিতে পারেন। কিন্তু এর সঙ্গে বিবেচনায় রাখতে হবে সমাজকেও। একটি সমাজে স্বাভাবিক কর্মকান্ড চালিয়ে যেতে একজন চাকরিজীবীকে যে জীবনমান ধারণ করতে হয়, জার্মানিতে তা হচ্ছে না। ন্যূনতম বেতন ঘণ্টায় ৩৫ সেন্ট বাড়ানোর পরও আনুষ্ঠানিক দারিদ্র্যসীমার খুব একটা ওপরে যেতে পারেননি জার্মান চাকরিজীবীরা। এখনো জার্মানির মধ্যবর্তী আয়সীমা থেকে অনেক দূরেই রয়ে যাচ্ছেন তারা। এই হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে সেসব পূর্ণকালীন চাকরিজীবীদের, যারা একা বাস করেন এবং যাদের কোনো সন্তান নেই। হিসাবে ধরে নেওয়া হয়েছে জার্মানির সব ধরনের সামাজিক সহায়তা পাওয়ারও যোগ্য এই ব্যক্তিরা। এরপর বিবেচনায় আনা হয়েছে, মাসের সব খরচ শেষে কী পরিমাণ অর্থ তাদের কাছে বাকি থাকে।

ইইউ’র দেশগুলোতে এটিও দারিদ্র্যসীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিবেচনায় রাখা হয়। কিন্তু এই দিক থেকে অন্য দেশগুলোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে জার্মানি। জার্মানির পেছনে আছে কেবল এস্টোনিয়া ও লাটভিয়া। ইউরোপীয় ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ন্যূনতম বেতন দেওয়া দেশ লুক্সেমবার্গেও চাকরিজীবীরা রয়েছেন দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে। নতুন তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে রোমানিয়া।

 

দেশটিতে একা বাস করা চাকরিজীবীদের দারিদ্র্যসীমা মাত্র মাসিক ১৩৭ ইউরো। কিন্তু ন্যূনতম বেতন পাওয়া চাকরিজীবীরা প্রায় এর দ্বিগুণ পেয়ে থাকেন। তবে রোমানিয়াতে সার্বিকভাবে সবাই কম বেতন পেয়ে থাকেন। ফলে মধ্যবর্তী বেতন কম হওয়ায়, তালিকার ওপরের দিকে যেতে পেরেছে অপেক্ষা দরিদ্র দেশগুলোও। আন্তর্জাতিক শ্রমনীতি বিশেষজ্ঞ থোর্স্টেন শুলটেনের মতে, ‘যেসব দেশে বেতন কম, তাদের ন্যূনতম বেতন বেশি বেতনের দেশ থেকে তুলনামূলক ভালো হয়ে থাকে।’

এ কারণেই গ্রিস, পর্তুগাল ও অন্যান্য কম বেতনের দেশগুলোতে ন্যূনতম বেতন দারিদ্র্যসীমার অনেক ওপরে হয়ে থাকে।

"