বহিঃসমর্পণ মামলা : যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করল কানাডা

প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড বহিঃসমর্পণের মামলাগুলোকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন।

চীনা টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়ের সিএফও মেং ওয়ানঝৌকে কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তরে ওয়াশিংটনের অনুরোধে হস্তক্ষেপ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের একদিন পর অটোয়ার পক্ষ থেকে এ প্রতিক্রিয়া এলো বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। গত বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফ্রিল্যান্ড কানাডার আরেক নাগরিককেও চীন আটক করে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন। চীনা কর্তৃপক্ষ এর আগে গত সোমবার কানাডার সাবেক কূটনীতিক মাইকেল করভিগকে আটকের খবর নিশ্চিত করে। ভ্যাঙ্কুভারে বিমান বদলানোর সময় গত ১ ডিসেম্বর কানাডীয় কর্তৃপক্ষ মেংকে গ্রেফতার করে। হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতার কন্যা মেংয়ের বিরুদ্ধে বহুজাতিক বিভিন্ন ব্যাংককে ইরানের সঙ্গে লেনদেন বিষয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ ওয়াশিংটনের।

ওইসব ভুল তথ্যের জন্য ব্যাংকগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ইরান নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন ও বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। মেং তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হুয়াওয়ের এ প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তাকে গ্রেফতারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বেইজিং। দুই দেশের কর্তৃপক্ষই কানাডীয় করভিগের আটকের সঙ্গে মেংয়ের গ্রেফতারের কোনো যোগসাজশ নেই বলে দাবি করলেও কানাডার বিশেষজ্ঞ কূটনীতিকরা বলছেন, দুটি ঘটনাই একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। গত মঙ্গলবার রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কিংবা চীনের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে সাহায্য করবে এমন সম্ভাবনা থাকলে মেংয়ের বিরুদ্ধে মার্কিন বিচার বিভাগের মামলায় তিনি হস্তক্ষেপ করতে পারেন।

এর প্রতিক্রিয়ায় ফ্রিল্যান্ড বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশে আইনি প্রক্রিয়াকে ছিনতাই করা উচিত নয়। বহিঃসমর্পণ বিষয়ে আইনি লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিলে মেংয়ের আইনজীবীরাও ট্রাম্পের মন্তব্যকে ব্যবহার করতে পারে, ধারণা তার। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের বহিঃসমর্পণ অংশীদারদের উচিত নয় বহিঃসমর্পণ প্রক্রিয়াকে রাজনীতিকরণ করা কিংবা বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশে ব্যবহার করা।

"