জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থতা হবে আত্মঘাতী : গুতেরেস

প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ama ami

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতার পরিমাণ কমাতে ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তি করা হয়েছিল। কিন্তু এ চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থতা হবে আত্মঘাতী। গত বুধবার পোল্যান্ডে জলবায়ু সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। এসব ১৩০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য সম্মেলনে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের হাতে তিন দিনেরও কম সময় রয়েছে। দুই সপ্তাহব্যাপী আলোচনায় প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ওই চুক্তিতে বৈশ্বিক উষ্ণতা কমিয়ে আনার কথা বলা হয়েছিল। জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, পোল্যান্ডের এ সম্মেলনে ব্যর্থ হলে তা সবুজ অর্থনীতির অপেক্ষায় থাকা মানুষের কাছে একটি বিপর্যয়মূলক বার্তা পাঠাবে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ধকল থেকে পালিয়ে আসতে এটিই আমাদের জন্য শেষ সেরা সুযোগ। এই সুযোগ না নেওয়াটা শুধু অনৈতিক হবে না বরং এটি হবে আত্মঘাতী।

এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর জলবায়ু সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনেও জলবায়ু ইস্যুতে সতর্কবার্তা দেন জাতিসংঘ মহাসচিব। তিনি বলেন, জলবায়ুর বিপর্যয়পূর্ণ পরিবর্তন ঠেকাতে নির্ধারিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় হাঁটছে না। তিনি বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত খুব একটা কিছু করতে পারছি না। এ ক্ষেত্রে আমাদের কাজের গতিও খুব একটা দ্রুত নয়। পোল্যান্ডের কাতোভিতাসায় জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিয়েছে বিশ্বের ১৮৩টি দেশ। ‘কনফারেন্স অব দ্য পার্টিস’ বা কপ নামে পরিচিত জাতিসংঘের এই বার্ষিক সম্মেলনের ২৪তম আয়োজন এটি। প্রায় দুই সপ্তাহব্যাপী সম্মেলন ১৪ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

২০১৫ সালে ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণের হার কমাবার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তা বাস্তবায়নে দেশগুলোর পরিকল্পনা বিষয়ে সম্মেলনে আলোচনা করছেন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান কে, কাকে, কীভাবে দেবে তাও সম্মেলনের আলোচনার বিষয়বস্তু। প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন ২০২০ সাল থেকে শুরু হওয়ার কথা। সেটি কার্যকর করতে একটি ‘রুলবুক’ বা নীতিমালা তৈরিই কপ ২৪-এর মূল লক্ষ্য হিসেবে ধরা হয়েছে।

প্যারিস চুক্তিতে বিশ্বের তাপমাত্রা শিল্প বিপ্লব পূর্ববর্তী সময়ে যা ছিল, তার চেয়ে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না বাড়তে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

সম্ভব হলে তা দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এবারের জলবায়ু সম্মেলনে বিশ্বব্যাংকের সিইও ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করে বলেছেন, ‘এটা নিশ্চিত যে জলবায়ু পরিবর্তনের লাগাম টেনে ধরার সুযোগ থাকা প্রজন্মগুলোর মধ্যে আমরাই সর্বশেষ। যদি এখনই আমরা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে না পারি তাহলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রথম ক্ষতিগ্রস্ত প্রজন্মটা হব আমরাই।’

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ২০২১-২৫ সাল মেয়াদে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সংস্থাটি ১০ হাজার কোটি ডলারের তহবিল দেবে। এই অর্থ জলবায়ুর পরিবর্তন রোধে গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন ও পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের কল্যাণে সমানভাবে ব্যয় করা হবে।

"