জাতীয় ঐক্য পুনর্গঠনের শপথ ফরাসি প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ama ami

তুমুল বিক্ষোভ-সহিংসতার মুখে ‘জাতীয় ঐক্য পুনঃস্থাপনের অঙ্গীকার করেছেন ফরাসি প্রধানমন্ত্রী এদুয়া ফিলিপ। গত শনিবার চতুর্থ সপ্তাহের মতো বিক্ষোভ থেকে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর এ ঘোষণা দেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এ কথা জানা যায়।

ফ্রান্সে জ্বালানির কর বৃদ্ধি ও জীবনযাপনের ক্ষেত্রে উচ্চ মূল্যসহ বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিবাদ জানাতে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছে ‘ইয়েলো ভেস্টস’ আন্দোলন। ফ্রান্সের ইতিহাসে গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। ক্রমাগত এ আন্দোলন আরো জোরালো হয়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পরিণত হতে থাকে। একইসঙ্গে সহিংস রূপ ধারণ করে তা। ১ ডিসেম্বর প্যারিসের রাস্তায় কয়েক দশকের সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা হতে দেখা গেছে। সহিংসতায় প্রাণহানিও হয়। তুমুল বিক্ষোভের মুখে ফ্রান্স সরকার জ্বালানি কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি বাতিল করলেও বিক্ষোভকারীদের অসন্তোষ থেকেই গেছে এবং অন্য ইস্যুগুলো নিয়ে বিক্ষোভ চলছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বহীন ইয়েলো ভেস্ট বিক্ষোভকারীরা সরকারকে ন্যূনতম পেনশন, কর ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন, অবসরের বয়সসীমা কমানোসহ ৪০টিরও বেশি দাবি-দাওয়া ছুড়ে দিয়েছে।

গত শনিবার উগ্র ডানপন্থি ও বামপন্থি দুই পক্ষের আন্দোলনকারীরাই রাস্তায় নামার ঘোষণা দিলে ফ্রান্সজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়। এ দিন আগের সপ্তাহের মতো অতটা ভয়াবহ মাত্রায় না হলেও বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা হয়েছে। এ দিন পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়েছে। প্রায় এক হাজার মানুষকে নিরাপত্তা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তারপরও অব্যাহত রয়েছে বিক্ষোভ।

এ পরিস্থিতিতে গত শনিবার ফরাসি প্রধানমন্ত্রী এদুয়া বলেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা ‘চালিয়ে যেতে হবে’। তিনি বলেন, ‘কোনো কর ব্যবস্থাই আমাদের জাতয়ি ঐক্যকে বিপন্ন করতে পারে না। আলোচনা, কাজ ও কাছাকাছি আসার মধ্য দিয়ে আমাদেরকে এখন সে জাতীয় ঐক্য পুনঃনির্মাণ করতে হবে।’

ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন শুরু হয় গত নভেম্বরে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে প্রশমিত করতে জ্বালানির কর বাড়ায় ফরাসি সরকার। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলেছেন, এতে চাপ পড়েছে মূলত নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর। এর প্রতিবাদে আন্দোলন সংগঠিত হয়। আইন অনুযায়ী, বেশি আলো প্রতিফলিত করে এমন এক ধরনের বিশেষ নিরাপত্তামূলক জ্যাকেট গাড়িতে রাখতে হয় ফরাসি চালকদের। এর রং সবুজ ও হলুদ। আন্দোলনকারীরা এই জ্যাকেট (ভেস্ট) পরে বিক্ষোভ শুরু করলে তাদের নাম হয়ে যায় ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনকারী। ফরাসি সরকারের অভিযোগ, আন্দোলনটি সংক্ষুব্ধ সাধারণ ফরাসিদের দ্বারা সংঘটিত হলেও, এখন সেটি চরম ডানপন্থি এবং নৈরাজ্যবাদীদের দখলে চলে গেছে। তারা সহিংসতা ও অস্থিরতা তৈরি করছে। আন্দোলনের মুখে সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত বাতিল করলেও, ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনকারীরা এখন নতুন নতুন দাবি নিয়ে হাজির হচ্ছেন। কর হার কমানো, বর্ধিত হারে ন্যূনতম আয় নিশ্চিত করা, জ্বালানির মূল্য আরো কমানো, অবসরকালীন সুবিধা বাড়ানো এবং ফরাসি প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের মতো দাবি এখন যুক্ত হয়েছে তাদের তালিকায়।

"