কৃষ্ণসাগরে যুদ্ধজাহাজ নোঙ্রে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ama ami

কৃষ্ণ সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ নোঙ্গরের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়া কর্তৃক ইউক্রেনের জাহাজ ও এর নাবিকদের আটক করাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যেই এ খবর এলো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য এ পদক্ষেপ সম্পর্কে তুরস্ককে অবহিত করতে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ১৯৩৬ সালের মন্ট্রিয়াক্স কনভেনশন অনুযায়ী এ ধরনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক তুরস্ককে অবহিত করার করার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বসফরাস প্রণালীতে সামরিক জাহাজ চলাচলে তুর্কি কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন রয়েছে। এই প্রণালী কৃষ্ণ সাগরকে ভূমধ্য সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা সিএনএনকে জানিয়েছেন, সাগরে রুশ কর্মকান্ডের প্রতিক্রিয়ায় কৃষ্ণ সাগরে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ নোঙ্গর করা হতে পারে।

২০১৮ সালের নভেম্বরের শেষদিকে ইউক্রেনের নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ জব্দ করে রাশিয়া। আটক করা হয় এর ২৪ ক্রুকে। এ ঘটনায় ইউক্রেন ও পশ্চিমা দুনিয়ার সঙ্গে বিবাদে জড়ায় রাশিয়া। এমন পরিস্থিতিতে আজোভ সাগরে ন্যাটোর যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্ক। জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি আশা করি তারা ইউক্রেনকে সহায়তা করবে ও নিরাপত্তা দিবে। রাশিয়া ইউক্রেনের বারডিযানস্ক ও নিকোপল যুদ্ধজাহাজ এবং দি ইয়ানা কাপা জাহাজ জব্দ করেছে। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া জাহাজের পথ আটকাতে চেষ্টা করে, যদিও এরপর নৌযানগুলো কের্চ স্ট্রেইটের উদ্দেশে চলছিল কিন্তু ট্যাঙ্কার দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়। এ ছাড়া রুশ বাহিনীর গুলিতে জাহাজে থাকা ছয় সেনা আহত হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইউক্রেন। আর রাশিয়ার অভিযোগ, নৌযানগুলা অবৈধভাবে তাদের জলসীমায় প্রবেশ করেছিল এবং নিরাপত্তার কারণে ওই পথে চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। এ ঘটনার পর রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের পাশাপাশি ইউরোপেরও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আর রাশিয়ার এমন আচরণের পর দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে ইউক্রেন। ২৮ নভেম্বর থেকে ৩০ দিনের জন্য সামরিক শাসনও জারি করা হয়। এই ঘটনায় ন্যাটো ইউক্রেনের প্রতি পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে। তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন অভিযোগ করেছেন যে, তার জনপ্রিয়তা হ্রাস করতেই পোরোশেঙ্কো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিচ্ছেন।

পোরোশেঙ্কোর দাবি, পুতিন আজোভ সাগর দখলে রাখতে চান। তিনি বলেন, জার্মানি আমাদের অত্যন্ত ভালো বন্ধু। আমরা আশা করি ন্যাটো আমাদের সহায়তায় আজোভ সাগরে তাদের জাহাজ পাঠাবে।

"