সৌদি যুবরাজের সঙ্গে বৈঠক বাতিল আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্টের

প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আলজেরিয়া সফররত সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস)-এর সঙ্গে বৈঠক বাতিল করলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেলআজিজ বুতেফ্লিকা। গত সোমবার প্রেসিডেন্টের দফতর থেকে জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্যগত কারণে সৌদি যুবরাজকে স্বাগত জানাতে পারছেন না বুতেফ্লিকা। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি। প্রেসিডেন্টের দফতরের এক লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভাইরাস জ্বরের কারণে পরিকল্পনা অনুযায়ী সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে স্বাগত করতে পারছেন না প্রেসিডেন্ট। মৌরিতানিয়া সফর শেষে গত রোববার আলজেরিয়ায় পৌঁছান এমবিএস। পরদিন সোমবার আলজেরিয়ার বৃহত্তম ইসলামপন্থি দলের পক্ষ থেকে এমবিএসকে স্বাগত জানানোয় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করা হয়।

বিরোধীদলের প্রধান আবদেররাজ্জাক মাক্রি এক বিবৃতিতে বলেন, আলজেরিয়ার সুনাম, মূল্যবোধ ও বাস্তবসম্মত স্বার্থ বিবেচনা না করেই এই সফরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দৃশ্যত সাংবাদিক জামাল খাশোগির নৃশংস হত্যাকান্ডের নির্দেশদাতা হিসেবে সংবাদমাধ্যমে নিজের নাম উঠে আসার পর ইমেজ পুনরুদ্ধারে দেশ-বিদেশে ম্যারাথন সফরে যাচ্ছেন সৌদি যুবরাজ। এর অংশ হিসেবেই গত রোববার মৌরিতানিয়া থেকে আলজেরিয়া পৌঁছান তিনি।

তবে শুধু আলজেরিয়া নয়, সম্প্রতি আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনেও বিশ্বনেতাদের সামনে কোণঠাসা হয়ে পড়েন সৌদি যুবরাজ। জি-২০ সম্মেলনের অফিসিয়াল ‘ফ্যামিলি ফটো’সহ বেশকিছু ছবিতে যুবরাজকে দেখা গেছে একেবারেই নিঃসঙ্গ অবস্থায়।

সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত একাধিক ছবিতে দেখা যায়, অন্য নেতারা নিজেদের মধ্যে করমর্দন বা আলাপ-আলোচনায় ব্যস্ত থাকলেও দৃশ্যপট থেকে যেন অনেকটাই ছিটকে পড়েছেন সৌদি যুবরাজ। অন্যরা যখন আলোচনা করছেন, নিঃসঙ্গ যুবরাজ তখন এক পাশে ঠায় দাঁড়িয়ে আছেন।

সম্মেলনে ট্রাম্প বা এরদোয়ানের মতো প্রভাবশালী বিশ্বনেতাদের সঙ্গে একান্তে সাক্ষাতের সুযোগ পাননি সৌদি যুবরাজ। তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র সঙ্গে বৈঠকের সুযোগ হয়েছে তার। বৈঠক শেষে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দফতরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ভবিষ্যতে খাশোগি হত্যাকান্ডের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি থামাতে যুবরাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে।

থেরেসা মে সৌদি যুবরাজকে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে যুবরাজের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সৌদি আরবকে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার ব্যাপারে আস্থা অর্জন করতে হবে। দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও এ হত্যাকান্ড নিয়ে যুবরাজের কাছে উদ্বেগ জানিয়েছেন।

২০১৮ সালের ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার হন সাংবাদিক জামাল খাশোগি। খুনের নির্দেশদাতা হিসেবে আঙুল ওঠে খোদ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে প্রথমে এ হত্যাকান্ডের খবর অস্বীকার করা হয়। পরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে হত্যাকান্ডের ঘটনা স্বীকার করলেও এর সঙ্গে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সম্পৃক্ততার খবর অস্বীকার করা হয়। ওই ঘটনায় দুনিয়াজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েন এমবিএস নামে পরিচিত মোহাম্মদ বিন সালমান।

 

"