ট্রাম্পের কথায় কাজে ব্যাহত উষ্ণায়নরোধ প্রচেষ্টা

প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা ও কাজের কারণে বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কার্বন নির্গমন হ্রাসের প্রচেষ্টা ব্যাহত বলেই মত গবেষকদের।

জলবায়ু চুক্তি ত্যাগ নিয়ে জাতিসংঘকে নোটিশ যুক্তরাষ্ট্রের নতুন একটি গবেষণায় বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে রাজনৈতিকভাবে অন্য দেশগুলোকেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন। ট্রাম্প ঐতিহাসিক জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার ব্যাখ্যায় বলেছিলেন, তিনি প্যারিস নয় বরং পিটসবুর্গের নাগরিকদের সেবা করার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। যদিও ওই সময় বিশ্বের অন্যান্য নেতারা প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে সমর্থন দিয়ে সামনে অগ্রসর হওয়ার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ১৮৮টি দেশের ঐক্যমতে ২০১৫ সালে প্যারিসে ওই জলবায়ু চুক্তি হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি এমন পর্যায়ে বেধে রাখার উদ্যোগে নেওয়া হবে, যাতে তা প্রাক শিল্পায়ন যুগের চেয়ে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না হয়।

২০১৬ সালের এপ্রিলে চুক্তি স্বাক্ষর হয় এবং ওই বছর নভেম্বর থেকে তা কার্যকর হয়। ২০১৭ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। ওই বছর নভেম্বরে সিরিয়া চুক্তিতে সাক্ষর করায় এখন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের একমাত্র দেশ যারা এ চুক্তি মানে না।

যদিও এ চুক্তি অনুযায়ী, কোনো দেশই ২০১৯ সালের ৪ নভেম্বরের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি ছাড়ার ঘোষণা দিতে পারবে না, আবার ওই সময় চুক্তিটি ত্যাগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হলেও শেষ হতে আরো এক বছর লেগে যাবে।

এর মানে দাঁড়াচ্ছে, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগের সময়টি ছাড়া প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে না এবং দেশটির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আবার চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

কিন্তু এখন ‘ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যানাল অ্যান্ড ইউরোপিয়ান এফেয়ার্স’ এর নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ট্রাম্পের কথা ও কর্মকান্ড এরই মধ্যেই প্যারিস জলবায়ু চুক্তির ‘মারাত্মক ক্ষতি’ করে ফেলছে।

ট্রাম্পের কারণে জলবায়ু চুক্তির ঠিক কী ধরনের ক্ষতি হচ্ছে তার প্রধান তিনটি দিক চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা।

প্রথমতো : প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে তেল, গ্যাস ও কয়লা শিল্পের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পরিবেশবিষয়ক নিয়মকানুনের বাধ্যবাধকতা কমে গেছে। যার ফলে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার হয় এমন প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগকারীরা বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত : যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ায় অন্যান্য দেশগুলোও ‘একই পথ অনুসরণ করার নৈতিক ও রাজনৈতিক সাহস পাচ্ছে। এরই মধ্যে রাশিয়া ও তুরস্ক জলবায়ু চুক্তিতে অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

তৃতীয়ত : যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন এবং ভারত প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বেগবান করতে কার্বন নির্গমন অনেক বেশি মাত্রায় হ্রাসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ছাড়া তারা ওই প্রতিশ্রুতি পূরণে অনাগ্রহ দেখাবে।

 

"