মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরও ইরান ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাবে

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটি বলেছে, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে তারা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা অব্যাহত রাখবে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, ইরান আগের তুলনায় বহুগুণ ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। বৈরী যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ আসার পরপরই গত রোববার ইরানের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা দেওয়া হলো।

এর আগে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও অভিযোগ করেন, মধ্যম রেঞ্জের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। যা ২০১৫ সালের ইরানের পরমাণু কর্মসূচিবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির লঙ্ঘন। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র পরে এ চুক্তি থেকে সরে আসে।

দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল আবলফজল শেকারচির উদ্ধৃতি দিয়ে আধা সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের সুরক্ষার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা অব্যাহত রাখবে ইরান এবং এটি তাদের নিজস্ব একটি কৌশল।

শেকারচি বলেন, ‘উন্নয়ন ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উভয়ই আমরা চালিয়ে যাব। এটা পরমাণু কর্মসূচির বাইরের বিষয় এবং দেশের নিরাপত্তার একটা অংশ। আর এ কাজের জন্য আমরা অন্য দেশের অনুমতির পরোয়া করি না।’ তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অনুযায়ী ইরান আসলেই নতুন কোনো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে কিনা সে বিষয়টি নিশ্চিত করেননি এই সামরিক মুুখপাত্র। এমনকি বিষয়টি অস্বীকারও করেননি তিনি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন টুইট করে জানান, ইরান কিছুক্ষণ আগে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে যেটি ইসরায়েল ও ইউরোপ পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম। এ রকম উসকানিমূলক আচরণ সহ্য করা যায় না।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা শুধুমাত্র দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে মন্তব্য করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি বলেছেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এমন কোনো বিধি-বিধান নেই যাতে বলা হয়েছে, ইরান কোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে বা পরীক্ষা করতে পারবে না।

২০১৫ সালে ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে বিরত থাকতে ব্রিটেন, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে উপনীত হয়। এটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর রেজ্যুলেশনে স্থান পায়। এতে বলা হয়, ইরান আগামী আট বছর এমন কোনো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করবে না যা পারমাণবিক অস্ত্র পরিবহনে সক্ষম। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র পরে এই চুক্তি থেকে সরে আসে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান গোপনে পারমাণবিক কর্মসূচি সমৃদ্ধ করে চলেছে। তবে ইরান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বারবার বলে আসছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি শুধু দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে পরিচালিত। এ ছাড়া তারা এমন কোনো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে যা পারমাণবিক অস্ত্র পরিবহনে সক্ষম। এমনকি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাধ্যমে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনাও নেই।

"