টুইটারে তর্জন-গর্জন ট্রাম্প-ইমরানের

প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সম্পর্কে টানাপড়েন প্রকাশ্য রূপ ধারণ করেছে। সম্প্রতি এই দুই নেতা বেশকিছু ইস্যুতে একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন। এজন্য গণমাধ্যম ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে বেছে নিয়েছেন দুই রাষ্ট্রনায়ক। পাকিস্তানকে শত শত কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে নিজ প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কিছুই করেনি পাকিস্তান। উল্টো দেশটির সরকার আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেনকে এমন এক স্থানে লুকিয়ে থাকতে সহায়তা করে, যার কাছেই ছিল সামরিক স্থাপনা। পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘অভিশাপ’ বলেও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।

রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাক্ষাৎকারে ওসামা বিন লাদেন প্রসঙ্গ টেনে এনে ট্রাম্প বলেন, ‘সত্যি বলতে কী পাকিস্তানে লাদেনকে আমরা যে মুহূর্তে আবিষ্কার করি, তাকে তার আগে পাওয়া গেলে বরং মন্দ হতো না, এটা অবাক করার মতোও কিছু ছিল না। চিন্তা করে দেখুন, লাদেন পাকিস্তানে থাকতেন এবং সুন্দর একটা অট্টালিকায়! যার পাশেই কিনা সামরিক একাডেমি।’ আরেকটু অগ্রসর হয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, পাকিস্তানের প্রত্যেকেই জানতেন তিনি পাকিস্তানে ছিলেন। লাদেন পাকিস্তানে বছরের পর বছর ছিলেন অথচ তারা আমাদের কিছুই জানাইনি। উল্টো আমরা প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়ে এসেছি।’

পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদের একটি বাড়িতে লাদেন লুকিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। ২০১১ সালে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে লাদেন নিহত হন। অ্যাবোটাবাদের বাড়িটির কাছেই ছিল পাকিস্তানের সামরিক একাডেমি। পরে বাড়িটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই বাড়িটিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প এ কথাগুলো বলেন। ট্রাম্পের এ মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন ইমরান খান। সোমবার এক টুইট বার্তায় ইমরান খান বলেন, ‘তার (ডোনাল্ড ট্রাম্প) এ বিষয়ে আরো ইতিহাস জানা দরকার। পরবর্তীতে আরেকটি টুইটবার্তায় ইমরান খান লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ চালিয়েছে তাতে দেশটির ৭৫ হাজার ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছে, খরচ হয়েছে ১২৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অথচ যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে দিয়েছে মাত্র ২০ বিলিয়ন ডলার, যা খুবই সামান্য।’ পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘সাপ্লাই রুট’ করে দিয়েছে উল্লেখ করে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ট্রাম্পের উদ্দেশে বলেন, ‘তিনি কী এমন কোনো মিত্রের কথা বলতে পারবেন যারা এত বড় ত্যাগ স্বীকার করতে পেরেছে?’ ইমরান খানের এই টুইটের জবাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি পাল্টা টুইট বার্তায় লিখেছেন, ‘পাকিস্তান হলো এমনই একটা দেশ যা যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনেক নিয়েছে কিন্তু বিনিময়ে কিছুই দেয়নি।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বরাবরই ভঙ্গুর প্রকৃতির। তবে ট্রাম্প ক্ষমতার আসার পর থেকে এ সম্পর্ক আরো নড়বড়ে হয়েছে। সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছেÑ এমন অজুহাতে পাকিস্তানকে সামরিক সহায়তা দেওয়া স্থগিত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।

পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল মিলিটারি এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেইনিং প্রোগ্রাম থেকে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের বহিষ্কার করেছে দেশটি।

যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই অভিযোগ করে আসছে, পাকিস্তান থেকে সন্ত্রাস নির্মূল না করে ‘ডাবল গেম’ খেলছে দেশটির সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা। তবে পাকিস্তান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

তালেবানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একের পর সামরিক হামলা অব্যাহত থাকলেও সংগঠনটিকে বরাবরই সমর্থন দিয়ে আসছে পাকিস্তান।

"