খাশোগি খুনের অডিও টেপকে ‘ভয়াবহ’ বলেছেন এরদোয়ান

প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি খুনের সঙ্গে সম্পর্কিত অডিও রেকর্ডিংগুলোর বিষয়বস্তুকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিজেপ তায়িপ এরদোয়ান।

ওই রেকর্ডিংগুলো শুনে সৌদি আরবের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তাও স্তম্ভিত হয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি, মঙ্গলবার তুরস্কের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসব বলা হয়েছে বলে খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

সম্প্রতি এই অডিও টেপগুলো তুরস্ক তাদের পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোর কাছেও পাঠিয়েছে।

সৌদি আরবের শাসন ক্ষমতা পরিচালনাকারী ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচক ছিলেন খাশোগি। গত মাসে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে তাকে খুন করা হয়। এ খুনের আদেশ সৌদি আরব সরকারের ‘সর্বোচ্চ পর্যায়’ থেকে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন এরদোয়ান।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শতবর্ষ পূর্তির অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে ফ্রান্স থেকে ফেরার সময় বিমানে এরদোয়ান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্যারিসে ডিনারের সময় খাশোগির হত্যাকান্ড নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জার্মানির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

‘এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত রেকর্ডিংগুলো যারা চেয়েছে তাদের সবাইকে দিয়েছি আমরা। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কিছুই লুকায়নি। সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, কানাডা, জার্মানি, ব্রিটেনসহ যারা চেয়েছে সবাইকে সেগুলো শুনিয়েছি আমরা’ বলেছেন এরদোয়ান।

এই রেকর্ডিংগুলো সত্যিই খুব ভয়াবহ। সৌদি গোয়েন্দা কর্মকর্তাও যখন এগুলো শুনেছে সে স্তম্ভিত হয়ে বলেছে, ‘এই লোক অবশ্যই হিরোইন খেয়েছে, শুধু হিরোইনের নেশাগ্রস্ত কারো পক্ষেই এমনটি করা সম্ভব।’

এই খুনের ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত এবং এর নির্দেশ সৌদি কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেই এসেছে এটি পরিষ্কার বলে জানিয়েছেন এরদোয়ান। কিন্ত এ ঘটনায় সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুলআজিজের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে বলে তিনি মনে করেন না এবং বাদশাহ সালমানকে তিনি ‘অপরিসীম শ্রদ্ধা’ করেন বলে জানিয়েছেন।

এরদোয়ান আরো বলেন, ক্রাউন প্রিন্স বলেছেন ‘আমি এই ঘটনার মিমাংসা করব, যা করা দরকার তা করব আমি।’ আমরা ধৈর্য ধরে আপেক্ষা করছি। কে তাদের এই খুনের আদেশ দিয়েছে তা অবশ্যই প্রকাশ করা দরকার।

যে ১৮ জন সন্দেহভাজনকে সৌদি আরবে আটক করা হয়েছে তাদের মধ্যে এই খুনের অপরাধীরাও আছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

খাশোগির হত্যাকান্ড নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সবাই এতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও বিশ্ব শক্তিগুলো বিশ্বের বৃহত্তম তেল রফতানিকারী দেশ ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের প্রভাব ঠেকানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তেমন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।

 

"