খাশোগির দেহ ‘অ্যাসিডে গলিয়ে ড্রেনে ফেলে দেওয়া হয়’

প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকারীরা তার মৃতদেহ অ্যাসিডে গলিয়ে দেহাবশেষ ড্রেনে ফেলে দেয় বলে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

শনিবার তুরস্কের সরকারপন্থি দৈনিক সাবাহর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটের ড্রেন থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় অ্যাসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনটিতে এই তথ্যের সূত্রের উল্লেখ না করে বলা হয়েছে, ওই নমুনায় অ্যাসিডের উপস্থিতি পাওয়ার পর তদন্তকারীরা ধারণা করছেন খাশোগির মৃতদেহ তরলে পরিণত করে ড্রেনে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

খাশোগিকে শেষবার ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করতে দেখা গিয়েছিল। আসন্ন বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করতে নিজ দেশের ওই কনস্যুলেটে গিয়েছিলেন তিনি। তারপর থেকে তার বা তার মৃতদেহের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

বারবার অস্বীকার করার পর সৌদি আরব শেষ পর্যন্ত স্বীকার করে ওই কূটনৈতিক মিশনে ‘অসৎ’ এক অভিযানে খাশোগি খুন হয়েছেন।

সৌদি আরব যাই বলুক, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিপেজ তায়িপ এরদোয়ান এই খুনের আদেশ দেওয়ার জন্য সৌদি আরবের ‘সর্বোচ্চ পর্যায়কেই’ দায়ী করেছেন। তুরস্কের কোনো কোনো কর্মকর্তা এই খুনের জন্য সৌদি আরবের সর্বক্ষমতার অধিকারী ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিল সালমানের দিকেই আঙুল তুলেছেন।

গত সপ্তাহে এরদোয়ানের উপদেষ্টা ইয়াসিন আকতাই বলেছিলেন, লাশটি সম্ভবত অ্যাসিড দিয়ে গলিয়ে ফেলা হয়েছে।

খাশোগির তুর্কি বাগদত্তা হেতিসে চেঙ্গিস বৃহস্পতিবার এক টুইটে লিখেছেন, ‘জামাল তোমার দেহ গলিয়ে ফেলার বিষয়টি শুনে যে দুঃখ পেয়েছি, তা প্রকাশ করতে পারছি না আমি! তারা তোমাকে হত্যা করে তোমার দেহ টুকরা টুকরা করে কেটে ফেলেছে, মদিনায় তোমার জানাজা পড়িয়ে তোমাকে দাফন করা থেকে আমাকে ও তোমার পরিবারকে বঞ্চিত করেছে।’

সোমবার তুরস্কের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খুনের পর সাক্ষ্যপ্রমাণ লোপাট করার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ইস্তাম্বুলে দুজন বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছিল সৌদি আরব।

এ বিষয়ে সাবাহর একটি প্রতিবেদন নিশ্চিত করেছেন তুরস্কের এক কর্মকর্তা। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, খাশোগি খুনের তদন্তের জন্য সৌদি আরব যে টিম পাঠিয়েছিল তার মধ্যে কেমিক্যাল বিশেষজ্ঞ আহমদ আব্দুল আজিজ আল জানোবি ও বিষবিদ্যা বিশেষজ্ঞ খালেদ আল জাহরানি ছিলেন।

সাবহর ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১১ অক্টোবর তুরস্কে আসার পর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত এই দুই বিশেষজ্ঞ প্রতিদিন ওই কনস্যুলেট ভবনে গিয়েছেন আর সৌদি কর্তৃপক্ষ তুরস্কের পুলিশকে ১৫ অক্টোবরের আগে ওই কনস্যুলেট ভবনে তল্লাশি চালানোর অনুমতি দেয়নি।

 

"