অস্ট্রিয়ার কর্নেল ছিলেন ‘রুশ গুপ্তচর’

প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সামরিক বাহিনীর এক কর্নেলের বিরুদ্ধে রাশিয়ার হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে অস্ট্রিয়া। ৭০ বছর বয়সী ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি সম্প্রতি অবসর নিয়েছেন। ১৯৯০ সাল থেকেই তিনি মস্কোতে তথ্য পাচার করেছেন বলে সন্দেহ কর্মকর্তাদের। রাশিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইউরোপীয় দেশগুলো এখন চিরাচরিত কূটনৈতিক সম্পর্কের বদলে উত্তেজনা সৃষ্টি করে ফায়দা তুলতে চায় বলেও মন্তব্য তাদের।

গুপ্তচরবৃত্তির এ অভিযোগ নিয়ে পাল্টাপাল্টির মধ্যেই অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কারিন কেনাইসেল তার নির্ধারিত মস্কো সফর বাতিলেরও ঘোষণা দিয়েছেন, জানিয়েছে বিবিসি। ইউরোপের ভেতর যে অল্প কয়েকটি দেশকে রাশিয়ার মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়, অস্ট্রিয়া তাদের মধ্যে একটি। রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন কয়েক মাস আগে জার্মানি সফরের পথে কেনাইসেলের বিয়েতেও যোগ দিয়েছিলেন। ২০১৪ সালে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া অধিগ্রহণ এবং চলতি বছর যুক্তরাজ্যে পক্ষত্যাগী গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়ের ওপর বিষাক্ত নার্ভ গ্যাস হামলার অভিযোগে ইউরোপের অধিকাংশ দেশ রুশ কূটনীতিক বহিষ্কার করলেও ভিয়েনা সে পথে হাঁটেনি। অস্ট্রিয়ার ক্ষমতাসীন জোট সরকারে থাকা কট্টর ডানপন্থি ফ্রিডম পার্টির (এফপিও) সঙ্গে পুতিনের ইউনাইটেড রাশিয়ার একটি সহযোগিতা চুক্তি আছে। জ্বালানি খাতে রাশিয়ার সঙ্গে ইউরোপের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়তেও অস্ট্রিয়ার নেতারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এর মধ্যেই শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জ অস্ট্রিয়ার কর্নেলের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ তদন্তের কথা জানান। ‘ঘটনাটি যদি সত্যি বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে বলতে চাই, এ ধরনের পদক্ষেপ রাশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্কের উন্নতিতে ভূমিকা রাখবে না,’ বলেন তিনি। অস্ট্রিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মারিও কুনাসেক বলেন, অন্য একটি ইউরোপীয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় কয়েক সপ্তাহ আগে তারা সামরিক বাহিনীর ভেতর এ ধরনের গুপ্তচরবৃত্তির কথা জানতে পেরেছেন। ‘এটি কি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, না অন্যকিছু তা এখনো বলতে পারছি না,’ বলেন কুনাসেক। সন্দেভাজন কর্নেলের নাম জানা যায়নি।

অস্ট্রিয়ার গণমাধ্যমগুলো বলছে, সন্দেহভাজন ওই কর্নেল সলজবুর্গ রাজ্যের সেনা নিয়ন্ত্রণ কক্ষে কর্মরত ছিলেন। রাশিয়ার ‘ইউরি’ নামের একজনের কাছে তিনি বিমান বাহিনী, গোলন্দাজ কার্যক্রম ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রোফাইল পাঠাতেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় দৈনিক ক্রোনেন সাইটুং। এ কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে তাকে তিন লাখ ইউরো দেওয়া হয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। গুপ্তচরবৃত্তির এ অভিযোগ নিয়ে রাশিয়া মস্কোতে থাকা অস্ট্রিয়ার রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছে। এর আগে ভিয়েনাও একই পদক্ষেপ নিয়েছিল, জানিয়েছে বিবিসি।

অস্ট্রিয়া থেকে পাওয়া খবরে ‘অপ্রত্যাশিতভাবে অবাক’ হওয়ার কথা জানিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ।

“সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের পশ্চিমা সহযোগীরা চিরাচরিত কূটনৈতিক সম্পর্ক ব্যবহার না করার নিয়ম বানিয়ে ফেলেছেন। এর বদলে তারা ‘মেগাফোন কূটনীতি’ ব্যবহার করছে যার মাধ্যমে জনসমক্ষে আমাদের অভিযুক্ত ও ব্যাখ্যা দাবি করা হচ্ছে, যেসব বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না,” বলেছেন তিনি।

 

"