আসিয়ান সম্মেলনে নজর থাকবে সু চির ওপর

প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

চলতি মাসেই দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি। রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ মোকাবিলায় ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হওয়া আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়া সু চি এই সম্মেলনেও তোপের মুখে পড়তে পারেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ লাখ মানুষ। সম্প্রতি জাতিসংঘের প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা নিপীড়নের ঘটনায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে দায়ী করা হয়েছে। এ ছাড়া বেসামরিক সর্বোচ্চ নেতা অং সান সু চিরও সমালোচনা করে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ ঠেকাতে নিজের নৈতিক অবস্থান ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।

আগামী ১১-১৫ নভেম্বর সিঙ্গাপুরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। জোটের বর্ষীয়ান ও সম্মানিত নেতা মাহাথির মোহাম্মদ বলেছেন, তিনি রোহিঙ্গা সংকটের কারণে সু চির ওপর আস্থা হারিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলেছি যে, আমরা তাকে সমর্থন করি না।’ মাহাথির বলেন, ‘আসিয়ানে আমাদের কারও অভ্যন্তর বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার বিধান নেই। তার পরও বলছি, এটা খুবই মারাত্মক। ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর রোহিঙ্গা সংকট আসিয়ানের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক কূটনীতিক ও মানবাধিকার কর্মীরা বলেছেন এতে করে আসিয়ানের গ্রহণযোগ্যতা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আসিয়ান মহাসচিবের সাবেক বিশেষ সহযোগী কাভি চোংকিতাভর্ন বলেন, রাখাইন সংকটে চুপ থাকলে আসিয়ানের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হবে।

আসিয়ানের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ব্রুনাই রোহিঙ্গা ইস্যুতে শক্ত অবস্থান নেবে। তবে কম্বোডিয়া, লাওস ও ভিয়েতনাম মিয়ানমারের পরমমিত্র। এ ছাড়া থাইল্যান্ডও সমর্থন দিচ্ছে তাকে। মিয়ানমারে নিযুক্ত সাবেক জাতিসংঘ কূটনীতিক রিচার্ড হর্সি বলেন, সিঙ্গাপুরে এই অঞ্চলের বাইরে থেকে অংশ নেওয়া নেতারা মিয়ানমার ইস্যুতে কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দেবেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডডেন্ট মাইক পেন্স, রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন, চীনা প্রিমিয়ার লি কিকিয়াং, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের এই সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির মুখপাত্র মিও নিন্ত বলেন, তারা বিষয়টি সম্মেলনেই ব্যাখা দিবেন। তিনি বলেন, আমরা মানছি যে অনেকের অনেক মত আছে। কিন্তু আমাদের দেশের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করেই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আমি তাদের বোঝাতে চাই এমন কিছু বিষয় আছে, যা চাইলেই আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।

 

"