‘খাশোগির মরদেহ কোথায় সৌদিকে বলতে হবে’

খাশোগি পরিবার ও বাগদত্তাকে ক্ষতিপূরণ দেবে রিয়াদ

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সাংবাদিক জামাল খাশোগির মরদেহের কী হয়েছিল, তা খুঁজে বের করার দায়িত্ব সৌদি আরবের। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেছেন জাপান সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু। একইসঙ্গে তিনি বলেন, আঙ্কারা মনে করে এ হত্যাকা-ের নির্দেশ সৌদি রাজা দেননি। মেভলুত কাভুসোগলু বলেন, আঙ্কারার হাতে এ হত্যাকা- সম্পর্কিত আরো তথ্য রয়েছে। তদন্ত শেষে এসব প্রকাশ করা হবে।

তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশ ছাড়া নিজ দেশের একজন নাগরিককে হত্যা করতে সৌদি আরব থেকে ১৫ জন তুরস্ক যাবেÑএমনটা সম্ভব নয়। এদিকে তুরস্কের একজন সিনিয়র কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, খাশোগিকে হত্যার পর সেখানে দুজন বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছিল সৌদি আরব। এদের একজন টক্সিকোলজিস্ট বা বিষতত্ত্ববিদ, অন্যজন রাসায়নিক বিশেষজ্ঞ।

কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে তুরস্কের ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে, খুনের প্রমাণ লোপাটে পাঠানো দুই ব্যক্তি হচ্ছেন আহমেদ আবদুল আজিজ আলজানোবি এবং খালেদ ইয়াহিয়া আল জাহরান। তারা যথাক্রমে রাসায়নিক বিশেষজ্ঞ এবং বিষতত্ত্ববিদ। ১২ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন তারা কনস্যুলেট ভবন পরিদর্শন করেন।

অন্যদিকে খাশোগির মৃতদেহ ফেরত চেয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন তার সন্তানরা। ৪ নভেম্বর মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খাশোগির দুই ছেলে বলেছেন, তারা বাবাকে কবর দিতে সৌদি আরবে ফিরতে চান। বাবাকে মদিনার জান্নাতুল বাকিতে সমাহিত করতে চান তারা।

২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেট ভবনে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন সৌদি অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগি। কনস্যুলেট ভবনে তার হত্যাকা- সংঘটিত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও এর সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান কিংবা অন্য কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নাকচ করে আসছে দেশটি। তবে সৌদি আরবের এমন দাবি মানছে না তুরস্কসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ। ইউরোপীয় দেশগুলো এ ইস্যুতে রিয়াদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। দেশটির ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জার্মানি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও চাপের মুখে পড়েন তার সৌদি সখ্য নিয়ে। দেশের ভেতরে কেবল বিরোধী ডেমোক্র্যাট শিবির নয়, নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরেও সমালোচিত হওয়ার একপর্যায়ে তিনি এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হন। খাশোগি নিহত হওয়ার এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তার মরদেহের হদিস এখনো মেলেনি। বাবাকে যথাযথভাবে দাফন করতে পারাটাই এখন সন্তানদের চাওয়া। সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খাশোগির দুই ছেলে সালাহ ও আবদুল্লাহ নিজেদের সে ইচ্ছার কথাই ব্যক্ত করেছেন।

সাক্ষাৎকারে ৩৫ বছর বয়সী সালাহ বলেন, ‘এটা কোনো স্বাভাবিক পরিস্থিতি নয়, কোনোভাবেই এটা স্বাভাবিক মৃত্যু ছিল না। এ মুহূর্তে আমরা যেটা চাই, তা হলো তাকে মদিনার জান্নাতুলবাকি কবরস্থানে পরিবারের অন্য মৃত সদস্যদের কবরের পাশে সমাহিত করা। আমি এ ব্যাপারে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করছি তারা শিগগিরই বাবার লাশ ফেরত দেবে।’

এদিকে, তুরস্ককে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, হত্যার শিকার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগির পরিবার ও তার তুর্কি বাগদত্তাকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেবে রিয়াদ। এক তুর্কি কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ খবর জানিয়েছে। তিনি আরো জানিয়েছেন, তুরস্ক খাশোগি হত্যাকা-ের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে তথ্যবিনিময় করেছে।

কনস্যুলেট ভবনে সৌদি অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকা- সংঘটিত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও এর সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান কিংবা অন্য কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নাকচ করে আসছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে সৌদি আরবের এমন দাবি নাকচ করে তুরস্ক এরই মধ্যে দাবি করেছে, সরকারের ঊর্ধ্বতনদের ইন্ধনেই এই হত্যাকা- সংঘটিত হয়েছে। ইউরোপীয় দেশগুলোও একে কয়েকজন বিচ্ছিন্ন গোয়েন্দা কর্মকর্তার কর্মকা- হিসেবে দেখতে নারাজ। তারাও এ ঘটনায় রাষ্ট্র হিসেবে সৌদি আরবকে দায়ী করছে। আল-জাজিরা জানিয়েছে, খাশোগি হত্যাকান্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে খাশোগির পরিবার ও তার বাগদত্তাকে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েছে সৌদি আরব। মঙ্গলবার এক তুর্কি কর্মকর্তা জানান, তুরস্ককে এ ব্যাপারে অবহিত করেছে রিয়াদ।

এখন পর্যন্ত খাশোগির মৃতদেহের সন্ধান পায়নি পরিবার। সম্প্রতি সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খাশোগির দুই ছেলে সালাহ ও আবদুল্লাহ বাবার মরদেহ ফিরে পাওয়ার আকুল আর্তি জানিয়েছেন।

"