রাজাপাকসের সমর্থনে কলম্বোর রাস্তায় মানুষ

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের সমর্থনে রাজধানী কলম্বোতে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। গত সোমবার এ বিক্ষোভে ১০ হাজারের মতো মানুষ অংশ নেন। রাজাপাকসেকে শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থনের কথা জানান বিক্ষোভকারীরা।

পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণিত না হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মাহিন্দা রাজাপাকসেকে স্বীকৃতি না দেওয়ার স্পিকারের সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেছেন বিক্ষোভকারীরা। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো ছাড়াও পার্লামেন্ট ভবনের কাছ দিয়েই এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ভারী বৃষ্টি উপেক্ষা করেই রাজাপাকসের সমর্থনে সেøাগান তোলেন বিক্ষোভকারীরা। তাদের সেøাগানগুলো ছিল এমন, ‘এটা কার জামানা, মাহিন্দার জামানা, আমরা কার লোক? মাহিন্দার লোক।’

২৬ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা আকস্মিক সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহেকে বরখাস্ত করে দায়িত্ব দেন সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসেকে। বিক্রমাসিংহে দায়িত্ব ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে দেশটিতে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়। কিন্তু এক বিবৃতিতে রাজাপাকসের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানান স্পিকার। তিনি বলেন, পার্লামেন্টের বেশির ভাগ সদস্যের মতো হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন অসাংবিধানিক ও প্রথাবিরোধী। তাই আমাকে পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য এই ঘটনায় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। নতুন গোষ্ঠী নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের আগ পর্যন্ত আমাকে কোনো পক্ষাবলম্বন না করার সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

জাতিসংঘ ও পশ্চিমা কয়েকটি দেশ পার্লামেন্টের অধিবেশন দ্রুত ডাকার আহ্বান জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট আগামী ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত পার্লামেন্টের অধিবেশন স্থগিত করেছিলেন। তবে রোববার সিরিসেনা ১০ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ১৪ নভেম্বর পার্লামেন্টের অধিবেশন আহ্বানের নির্দেশ দিয়েছেন। তার এই সিদ্ধান্তকে অনেক বিলম্বিত বলে অভিহিত করেছে বিক্রমাসিংহের দল। শ্রীলঙ্কায় প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে বরখাস্ত রনিল বিক্রমাসিংহের দলের একজন সংসদ সদস্য অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার নিয়োগ দেওয়া প্রধানমন্ত্রী রাজাপাকসের প্রতি সমর্থন নিশ্চিতে তাকে ৫০ কোটি শ্রীলঙ্কান রুপি ঘুষ পেশ করা হয়েছিল। ২০০৫-১৫ সাল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট ছিলেন রাজাপাকসে। কিন্তু ২০১৫ সালে একই দলের প্রার্থী রাজাপাকসেকে হারিয়ে সিরিসেনা প্রেসিডেন্ট হন। পরে ২০১৫ সালে পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর গঠিত হয় জোট সরকার, সিরিসেনা যার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন বিক্রমাসিংহেকে। কিন্তু তারপর থেকে তাদের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠতে থাকে, যার প্রেক্ষিতে সিরিসেনা গত ২৬ অক্টোবর তাকে বরখাস্ত করেন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন।

শুক্রবার ২২৫ সদস্যের পার্লামেন্টের ১১৮ জন সংসদ সদস্য অধিবেশন শুরুর দাবি জানানোয় সংশ্লিষ্টরা বিক্রমাসিংহের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টিকে যাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহে নিজেও পার্লামেন্ট অধিবেশন দাবি করছেন, যাতে ‘আস্থা ভোটের’ মাধ্যমে তার প্রতি থাকা সমর্থনের বিষয়টি প্রমাণ করতে পারেন তিনি। এর মধ্যেই সোমবার কলম্বোর পার্লামেন্ট ভবনের কাছে বড় ধরনের শোডাউনে অংশ নেয় রাজাপাকসের সমর্থকরা।

 

"