খুন হওয়ার শঙ্কায় আসিয়া, সুরক্ষা নিশ্চিতে কারাগারে ‘সেফ হাউস’

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ব্লাসফেমির অভিযোগ থেকে গত সপ্তাহে নিষ্কৃতি মিললেও বন্দিত্ব ঘোচেনি পাকিস্তানের খ্রিস্টান নারী আসিয়া বিবির। কারা সংশ্লিষ্ট এক সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, খুন হওয়ার ভয়ে কারাগার থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন তিনি। এমন অবস্থায় পাকিস্তানের সেনা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে তার নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জীবন শঙ্কায় থাকা আসিয়ার জন্য কারাগারের অভ্যন্তরেই নির্মাণ করা হয়েছে ‘সেফ হাউস’।

৩১ অক্টোবর আসিয়া বিবির মৃত্যুদন্ড বাতিলের রায় দেওয়ার পরপরই ইসলামাবাদ, করাচি ও লাহোরের গুরুত্বপূর্ণ অনেক রাস্তা অবরোধ করে টিএলপি-তেহরিক-ই-লাব্বায়েক পাকিস্তান নামের উগ্রবাদী সংগঠন। সরকার ও সেনাপ্রধানকে উৎখাতসহ বিচারকদের হত্যার দাবি তোলে বিক্ষুব্ধরা। উত্তেজনা নিরসনে শনিবার (৩ নভেম্বর) টিএলপির সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছায় ইমরান খানের সরকার। সমঝোতা অনুযায়ী, উগ্রবাদী বিক্ষোভের অবসানের বিনিময়ে সরকারের পক্ষ থেকে আসিয়া বিবির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে কেউ রিভিউ পিটিশন দায়ের করলে তার বিরোধিতা না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সিএনএন জানিয়েছে, সরকারের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সমঝোতা সত্ত্বেও জীবনশঙ্কায় রয়েছেন আসিয়া।

২০০৯ সালে মুসলিম শ্রমিকদের গ্লাসে আসিয়ার পানি পান করাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তোলা হয়। ২০১০ সালে পাকিস্তানের ব্লাসফেসি আইনে দেশটির প্রথম নারী হিসেবে তাকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হলে তখন থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোরালো সমালোচনা শুরু হয়। উচ্চ আদালতের রায় বাতিল করে গত ৩১ অক্টোবর পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত আসিয়া বিবির মৃত্যুদন্ড বাতিল করে তাকে সাজা থেকে অব্যাহতি দেন। রায় ঘোষণার পরপরই বিক্ষোভ শুরু করে কট্টরপন্থি দল তেহরিক-ই-লাব্বাইক (টিএলপি)। সরকারের সঙ্গে তাদের সমঝোতা অনুযায়ী, আসিয়ার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও রিভিউ পিটিশনের বিরোধিতা না করার পাশাপাশি সহিংস কর্মকান্ডে সংশ্লিষ্ট নয়, এমন বিক্ষোভকারীদের ছেড়ে দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। এর বিপরীতে টিএলপির পক্ষ থেকে বিক্ষোভ বন্ধের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি তাদের কর্মকান্ডে কেউ মানসিক আঘাত পেয়ে থাকলে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়েছে। তবু আসিয়াকে কারাগার থেকে বের করা হচ্ছে না তার জীবনশঙ্কার কারণে। নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়ে এরই মধ্যে নেদারল্যান্ডসে আশ্রয় নিয়েছেন তার আইনজীবী সাইফুল মালুক।

 

আর আসিয়ার জন্য এখন তার কারাকক্ষকে সেফ হাউসে রূপান্তর করা হয়েছে।

সিএনএনের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে আসিয়া বিবির নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আসিয়া বিবির কক্ষে অতিরিক্ত নজরদারি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। ওই জায়গায় প্রবেশ ও সেখান থেকে বের হওয়ার সময় সবাইকে তল্লাশি করা হচ্ছে। যারা আসিয়ার জন্য খাবার প্রস্তুত করেন তাদেরও তল্লাশি করা হয়। সোমবার আসিয়ার আইনজীবী সাইফুল মালুক নেদারল্যান্ডসের হেগে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তাকে তার ‘ইচ্ছার বিরুদ্ধে’ দেশ ছাড়তে হয়েছে। জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাকে দেশ ছাড়তে বলেছে। সংবাদ সম্মেলনে মালুক বলেন, ‘আমি জোরালোভাবে বলেছিলাম, আসিয়াকে কারাগার থেকে বের না করা পর্যন্ত আমি দেশ ছাড়ব না।’

আন্তর্জাতিক সুশীল সমাজ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অবস্থান সব সময়ই ব্লাসফেমি আইনের বিরুদ্ধে। তারা মনে করে, ধর্মীয় অনুভূতির প্রশ্ন সুনির্দিষ্ট কোনো প্রশ্ন নয়, ধর্ম অবমাননাকেও তাই আইনি পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে বিচার করা যায় না। পাকিস্তানের ব্লাসফেমি আইনে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদন্ড, তবে সেখানে অনেক মানুষ ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই গণমারধরে নিহত হয়েছেন।

 

"