পাঁচ সুটকেসে বহন করা হয় খাশোগির লাশের টুকরো

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেট ভবনে প্রবেশের কিছুক্ষণের মধ্যেই হত্যা করা হয় সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে। খুনের পর লাশ কেটে টুকরো টুকরো করা হয়। পাঁচটি সুটকেসে ভরে সেই টুকরোগুলো নিয়ে যাওয়া হয় সৌদি কনসাল জেনারেলের বাসায়। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রোববার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে তুরস্কের ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সাবাহ।

তুর্কি কর্মকর্তারা ডেইলি সাবাহকে জানিয়েছেন, সৌদি থেকে ১৫ সদস্যের যে হিট স্কোয়াড বা ঘাতক দল এসেছিল তাদের মধ্যে মাহের আবদুল আজিজ মুতরেব, সালাহ তুবেইগি ও সায়েরুল হারবি খাশোগির দেহ টুকরো টুকরো করেছে। এরপর তারা সুটকেসে করে টুকরোগুলো কনস্যুলেট ভবন থেকে সরিয়ে নেয়।

মাহের আবদুল আজিজ মুতরেব সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সরাসরি সহকারী, তুবেইগি সৌদি সামরিক বাহিনীর ফরেনসিক বিভাগের প্রধান। সায়েরুল হারবিকে গত বছর সৌদি রাজকীয় গার্ড বাহিনীর লেফটেন্যান্ট পদে উন্নীত করা হয়। জেদ্দায় যুবরাজের বাসভবনের নিরাপত্তায় পারদর্শিতার পুরস্কারস্বরূপ তাকে এ পদে উন্নীত করা হয়।

২ অক্টোবর ২০১৮ স্থানীয় সময় আনুমানিক বেলা ৩টার দিকে সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর হত্যা করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বেলা ৩টার পর ঘাতক দলের ওই তিন সদস্য একাধিক গাড়িতে করে কনস্যুলেট ভবন থেকে ২০০ মিটার দূরত্বের সৌদি কনসাল জেনারেলের বাসায় যান। এর দুই ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ওই বাসা থেকে বেরিয়ে যান সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সহকারী মুতরেব।

এদিকে খাশোগির দেহ টুকরো টুকরো করার পর তা এসিডে গলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন তুরস্কের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। তুর্কি প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ইয়াসিন আখতায় বলেছেন, এটাই ‘একমাত্র যৌক্তিক উপসংহার’। তুরস্কের দৈনিক সংবাদপত্র হুরিয়াতকে তিনি বলেন, যারা খাশোগিকে হত্যা করেছে তারা কোনো প্রমাণ না রাখতেই তার দেহ এসিডে গলিয়ে দিয়েছে। তুরস্কের কর্তৃপক্ষ খাশোগিকে হত্যার প্রমাণ থাকার দাবি করে এলেও তার মরদেহ উদ্ধার করতে পারেনি। এমন প্রেক্ষাপটেই খাশোগির মরদেহ নিয়ে এমন আশঙ্কার কথা জানালেন তুর্কি প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা।

আখতায় হুরিয়াতকে বলেন, খাশোগির দেহ টুকরো করার কারণ তাতে আরো সহজেই তা এসিডে গলিয়ে ফেলা গেছে। তারা শুধু তার দেহকে টুকরোই করেনি, বরং তা ভস্মীভূতও করেছে। প্রথমে অস্বীকার করলেও ঘটনার প্রায় ১৭ দিন পর সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ খাশোগিকে হত্যার কথা স্বীকার করে জানায়, ১৫ সদস্যের একটি দল তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গিয়ে ভুলবশত হত্যা করে ফেলেছে। তবে তুর্কি কর্তৃপক্ষ দাবি করে আসছে, সৌদি যুবরাজের ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও এক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত ওই দলটি খাশোগিকে হত্যার পরই বিশেষ বিমানে ইস্তাম্বুল ছেড়ে যায়।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান অবশ্য খাশোগিকে ‘বিপজ্জনক ইসলামপন্থি’ বলে উল্লেখ করেছেন বলে খবর বেরিয়েছে। খাশোগিকে হত্যার কথা স্বীকার করার আগেই হোয়াইট হাউসে ফোন করে যুবরাজ এ কথা বলেছিলেন। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এই মন্তব্য করা বা হত্যাকান্ডে রাজপরিবারের কারো জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, সব ঘটনা উন্মোচনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তারা।

ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, ২ অক্টোবর খাশোগিকে হত্যার পর গত ৯ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্টের জামাই ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার এবং নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনকে ফোন করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। এসব ফোনে খাশোগিকে বহুজাতিক ইসলামপন্থি সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য বলে দাবি করেন তিনি। সৌদি-মার্কিন সম্পর্ক অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানান যুবরাজ। তবে ওই সংবাদপত্রটিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে খাশোগির পরিবার তার মুসলিম ব্রাদারহুডের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হত্যার শিকার হওয়া সাংবাদিক বিগত কয়েক বছর নিজেও বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, ‘খাশোগি বিপজ্জনক ব্যক্তি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এই দাবি অবাস্তব।’

 

"