খাশোগি হত্যাকাণ্ড

সৌদি যুবরাজের পাশে দাঁড়ালেন নেতানিয়াহু!

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র ক্ষোভ আর নিন্দায় শামিল হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরবের নীরব মিত্রশক্তি ইসরায়েলও এবার অনুসন্ধানী সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকান্ডকে ‘ভয়ংকর’ আখ্যা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের তাগিদও দিয়েছেন। তবে স্পষ্ট করে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, খাশোগির হত্যা রহস্য উন্মোচনের সমান্তরালে সৌদি আরবের স্থিতিশীলতা তার দেশের জন্য জরুরি। ওই হত্যাকান্ডে যখন সৌদি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ইন্ধন এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ঘুরেফিরে আসছে, ঠিক সে সময় সৌদি স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিলেন নেতানিয়াহু। তার সরকারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের কাছে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো করেই খাশোগি হত্যার দায় থেকে সৌদি আরবকে নিষ্কৃতি দিতে চাইছে ইসরায়েল। ওই সংবাদমাধ্যম তাই ‘খাশোগি হত্যাকান্ড সত্তেবও সৌদি যুবরাজের পাশে ইসরায়েল’ শিরোনামে খবর লিখেছে। বিশ্লেষকরা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানবিরোধী রাজনীতির স্বার্থে সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ককে যুক্তরাষ্ট্র যেমন দেখতে চায়, নেতানিয়াহুর মন্তব্য তারই প্রতিফলন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নিজেও বলেন, ইরানবিরোধী অবস্থান সমুন্নত রাখা তার জন্য খাশোগি হত্যা রহস্য উন্মোচনের মতোই জরুরি।

২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেট ভবনে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন সৌদি অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগি। কনস্যুলেট ভবনে তার হত্যাকান্ড সংঘটিত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও এর সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান কিংবা অন্য কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নাকচ করে আসছে দেশটি। তবে সৌদি আরবের এমন দাবি মানছে না তুরস্কসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ। ইউরোপীয় দেশগুলো রিয়াদের বিরুদ্ধে সোচ্চার, জার্মানির অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও চাপের মুখে পড়েছেন তার সৌদি সখ্য নিয়ে। দেশের ভেতরে কেবল বিরোধী ডেমোক্র্যাট শিবির নয়, নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরেও সমালোচিত হওয়ার এক পর্যায়ে তিনি এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হয়েছেন। এবার সেই ধারাবাহিকতায় সামিল হলো ইসরায়েল। খাশোগি হত্যার ঘটনায় এতদিন নীরব দর্শকের ভূমিকার পালনকারী ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শুক্রবার বুলগেরিয়ায় সাংবাদিকদের বলেন, গত মাসে সৌদি কনস্যুলেট ভবনে যা ঘটেছে তা ‘ভয়ংকর এবং এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।’ তবে একইসঙ্গে সৌদি আরবকে স্থিতিশীল রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘একই সময়ে বিশ্ব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে সৌদি আরবকে স্থিতিশীল রাখা জরুরি।’

ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও বিভিন্ন সময়ে দুই দেশের মধ্যে গোপন রাজনৈতিক, গোয়েন্দা ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের খবর উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমে। সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সৌদি ইসরায়েল সম্পর্ককে ট্রাম্প তার কথিত ‘মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনার’ও কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছেন। রিয়াদে সৌদি যুবরাজের সঙ্গে সাক্ষাতের পর পরই ট্রাম্পকে ইসরায়েল সফরে যেতে দেখা যায়। গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী দ্য আটলান্টিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান স্পষ্ট করেই বলেন, বহু বিষয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে।

 

"