জাতিসংঘের ত্রাণবাহী ট্রাকবহর সিরিয়ার রুকবান ক্যাম্পে

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জর্ডান সীমান্তের কাছে সিরিয়ার মরুভূমিতে অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকা কয়েক হাজার মানুষের আশ্রয়স্থল একটি ক্যাম্পে জাতিসংঘের ত্রাণবাহী ট্রাকবহর হাজির হয়েছে। ওই ট্রাকবহর শনিবার রুকবান শরণার্থী শিবিরে পৌঁছেছে বলে জানান শিবিরটির স্থানীয় পরিষদের এক সদস্য, খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের। এই স্থানীয় পরিষদ রুকবান শিবিরটি পরিচালনা করে এবং তারা জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণবহরটির বিষয়ে সহযোগিতা দিচ্ছে।

স্থানীয় পরিষদের আবু আবদুল্লাহ নামের ওই সদস্য বলেন, ‘প্রথম বহর শিবিরে প্রবেশ করেছে।’ জাতিসংঘ জানান, তারা রুকবান শিবিরের ৫০ হাজার বাসিন্দার জন্য খাবার, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সহায়তা, জঞ্জাল সাফাই ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার সরঞ্জামাদি সরবরাহ করেছে। বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত এই এলাকাটিতে এসব সরবরাহ বিলি করতে তিন থেকে চার দিন লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিরিয়ান আরব রেড ক্রিসেন্টও ওই বহরের সঙ্গে আছে। এই সংস্থাটি শিবিরের ১০ হাজার শিশুকে জরুরি ভিত্তিতে হাম, পোলিও ও অন্যান্য রোগের টিকা দিবে বলে জাতিসংঘের বিবৃতিতে বলা হয়েছে। সিরিয়ায় মানবিক ত্রাণ সহায়তা সংক্রান্ত জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি আলি আল জাতারি বলেন, ‘অতি প্রয়োজনীয় এই ত্রাণ সরবরাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলেও রুকবানে বসবাস করা বহু বেসামরিকের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধান বের করা দরকার।’ রুকবান শিবিরে ত্রাণ পৌঁছানোর সংবাদকে স্বাগত জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাশিয়া সিরিয়ার সরকারের ওপর তাদের প্রভাব ব্যবহার করে এসব মানবিক ত্রাণ সরবরাহের ধারা অব্যাহত রাখতে সহযোগিতা করবে বলে এক বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করেন তারা।

রুকবান শরণার্থী শিবিরটি সিরিয়া, জর্ডান ও ইরাকের সীমান্তের কাছে মরুভূমিতে অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সিরিয়ার বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত এই শিবিরটির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর তানফ ঘাঁটির অবস্থান।

শেষবার জানুয়ারিতে এই শিবিরটিতে জাতিংঘের বহর ত্রাণ নিয়ে গিয়েছিল। গত মাসে শিবিরটির সিরিয়ার পাশের সীমান্ত সিরিয়ার সেনাবাহিনী পুনরুদ্ধার করে। এতে ব্যবসায়ী ও চোরা কারবারিদের পক্ষে শিবিরটিতে আর কোনো কিছু সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।

এই এলাকাটি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সিরিয়ার সেনাবাহিনী জর্ডানের সীমান্ত ঘেঁষা এই শিবিরটি ঘিরে ফেলেছে।

জানুয়ারিতে জর্ডানের ভেতর দিয়ে শিবিরটিতে ত্রাণ সরবরাহ করা হলেও তারপর থেকে দেশটি এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। ওই শিবিরের পরিস্থিতির দায় তারা নিবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে জর্ডান।

এক সপ্তাহ আগে সিরিয়ার বাশার আল আসাদ সরকারের অনুমতি পেয়ে জাতিসংঘের ত্রাণের ট্রাকগুলো রুকবান শিবিরে ত্রাণ সরবরাহ করার প্রস্তুতি নেয়।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে খাবার ও ওষুধের সংকটে শিবিরটির অন্তত এক ডজন বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান জাতিসংঘ।

 

"