‘জেরুজালেমকে ইসরায়েলি রাজধানী স্বীকৃতি দিতে পারে অস্ট্রেলিয়া’

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জেরুজালেমের স্বীকৃতির প্রশ্নে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পথেই হাঁটতে চাইছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। তিনি বলেছেন, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা ভাববে অস্ট্রেলিয়া। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার ইসরায়েলস্থ রাজধানী তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ার কথাও ভাবা হবে। তবে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের মন্ত্রিসভা ও অন্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন মরিসন। একে ধোঁকাবাজি বলে আখ্যা দিয়েছে বিরোধীরা। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে। এর আগে মরিসনের পূর্বসূরি ও সাবেক অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলস্থ মার্কিন দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি। ঘোষণা অনুযায়ী, গত মে মাসে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তুমুল নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণ করলেও বেশির ভাগ দেশই ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান জানিয়ে নিজেদের দূতাবাস তেলআবিবেই রেখে দেয়। তবে এবার অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলছেন, দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) সাংবাদিকদের মরিসন বলেন, ‘দ্বিরাষ্ট্র সমাধান নীতির প্রতি আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে খোলাখুলিভাবে বলতে গেলে এটা ভালোভাবে কাজ করছে না, এ ব্যাপারে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি।’

মরিসন জানান, একই সঙ্গে দ্বিরাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন বজায় রাখা এবং জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেওয়াÑ দুটোই করতে পারে অস্ট্রেলিয়া। তিনি মনে করেন, এমন হতে পারে যে পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনি রাজধানী আর পশ্চিম জেরুজালেমকে ইসরায়েলি রাজধানীর স্বীকৃতি দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া।

স্কট মরিসন বলেছেন, জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তরের ধারণাটি তাকে দিয়েছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত সাবেক রাষ্ট্রদূত ডেভ শর্মা। ইহুদি-অধ্যুষিত ওয়েন্টওর্থ এলাকায় আগামী শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার কূন্য আসনটিতে উপনির্বাচন হচ্ছে। ওই আসনে শর্মা ভোটে না জিতলে বর্তমান হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবেন মরিসন। বিরোধীদের অভিযোগ, ইহুদি অধ্যুষিত এলাকায় ভোট পেতে ‘অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বিপজ্জনক ও ধোঁকাবাজিপূর্ণ শব্দ খেলায় মেতেছেন’ মরিসন।

"