যুক্তরাষ্ট্রে মাইকেলের তান্ডব, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপকূল দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় ‘দানবীয়’ ঘূর্ণিঝড় মাইকেল অভাবনীয় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে সমুদ্র তীরবর্তী একটি এলাকাকে ‘মানচিত্র থেকে প্রায় মুছে দিয়েছে’ বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। ফ্লোরিডার উত্তর-পশ্চিম উপকূলে মেক্সিকো বিচ শহরের কাছেই বুধবার ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার গতির বাতাস নিয়ে আছড়ে পড়েছিল চার মাত্রার হারিকেন মাইকেল।

যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখন্ডে আঘাত হানা অন্যতম শক্তিশালী এ ঘূর্ণিঝড়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ১৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনো পুরো মাত্রায় উদ্ধার তৎপরতা শুরু না হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা বিবিসির।

মাইকেলের এ তান্ডবলীলাকে সবচেয়ে বড় বোমা ‘মাদার অব অল বোম্বস’র ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গেও তুলনা করা হচ্ছে।

‘অনেকের জীবন একেবারেই বদলে গেছে, অনেক পরিবার সব হারিয়েছে’ বলেছেন রাজ্য গভর্নর রিক স্কট।

মেক্সিকো বিচে এখনো কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে জরুরি বিভাগের কর্মীরা এখনো সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছাতে না পারায় সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।

শহরটির হাজারখানেক বাসিন্দার সবাইকে ঝড়ের আগেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছিলেন কর্মকর্তারা, তারপরও প্রায় ২৮৫ জন ওই নির্দেশ না মানায় উদ্বেগ বাড়ছে।

ঝড়ের কারণে ফ্লোরিডা, আলাবামা, জর্জিয়া, ভার্জিনিয়া ও ক্যারোলাইনার ১০ লাখেরও বেশি বাড়িঘর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, আঘাত হানার সময় মাইকেলের গতিবেগ ছিল পাঁচ মাত্রার চেয়ে সামান্য কম। তীব্র বাতাস উপকূলীয় শহরগুলোর অসংখ্য বাড়িঘর ও গাছপালা গোড়া থেকে উপড়ে ফেলেছে, ৩০ টন ওজনের মালবাহী রেলের বগিকে উড়িয়ে নিয়েছে খেলনার মতো।

‘মাদার অব অল বোম্বস এর চেয়ে বেশি ক্ষতি করতে পারত না’ নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন মেক্সিকো বিচের সাবেক মেয়র টম বেইলি।

মাইকেলের কারণে প্রায় ৮০০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা দিয়েছে বীমা কোম্পানি কারেন ক্লার্ক।

ঘূর্ণিঝড় নর্থ ক্যারোলাইনার বড় দুটি শহর ও ভার্জিনিয়ার কিছু অংশেও তাৎক্ষণিক বন্যা নিয়ে আসে। ভার্জিনিয়ায় অন্তত পাঁচটি টর্নেডো হয়েছে বলেও ধারণা সেখানকার পুলিশের। তবে সবচেয়ে বেশি তান্ডব দেখেছে ফ্লোরিডার প্যানহ্যান্ডেল। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলগুলোর কয়েক হাজার সদস্যকে সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে।

উদ্ধারকাজে কুকুরের পাশাপাশি ড্রোন ও জিপিএস সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে বিবিসি।

ঝড়ের কারণে হওয়া বন্যায় মেক্সিকো বিচের কাছাকাছি শহর পোর্ট সেইন্ট জো-র প্রায় এক হাজার বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া পাঁচ রাজ্যের বাসিন্দার সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে আমেরিকান রেড ক্রস।

নিরাপদে সরে যাওয়া বাসিন্দাদের এখনি বাড়ি না ফিরতেও অনুরোধ করেছেন গভর্নর স্কট। বিদ্যুতের তার ও অন্যান্য ধ্বংসস্তূপের কারণে বিপদ নেই, কর্মকর্তারা এমনটি জানানোর পর বাড়িতে ফেরারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে আছড়ে পড়ার আগে মাইকেল মধ্য আমেরিকার দেশগুলোতেও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। ঘূর্ণিঝড়টির তান্ডবে নিকারাগুয়া, হন্ডুরাস ও এল সালভাদরে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

১৯৬৯ সালে মিসিসিপি ও ১৯৩৫ সালে লেবার ডে-তে ফ্লোরিডায় আছড়ে পড়া ঝড়ের পর মাইকেলকেই যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখন্ডে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

রেকর্ড অনুযায়ী, এর আগে ফ্লোরিডার প্যানহ্যান্ডেলে চার মাত্রার কোনো ঝড় আঘাত হানেনি বলে জানিয়েছেন এনএইচসির আবহাওয়াবিদ ডেনিস ফেল্টজেন।

 

"