অবরুদ্ধ গাজায় জ্বালানি সরবরাহ আটকে দিল ইসরায়েল

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় তেল সরবরাহ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাভিগডর লিবারম্যান এক নির্দেশনায় জানিয়েছেন, গাজায় আর কাতার থেকে আমদানিকৃত তেল প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। শুক্রবার তার কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনা সদস্য ও বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার জবাবে তেল সরবরাহ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লিবারম্যান যেদিন এই নির্দেশ দিয়েছেন সেদিনই চলমান গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন কর্মসূচিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছে ছয় ফিলিস্তিনি। চলমান মানবিক বিপর্যয়ের শোচনীয় অবস্থা ঠেকাতে ঠেকাতে জাতিসংঘের মধ্যস্ততায় ইসরায়েলের ভেতর দিয়ে গাজার বিদ্যুৎকেন্দ্রে তেল সরবরাহ শুরু করেছিল কাতার। অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় গত ৯ অক্টোবর সেখানে জ্বালানি সরবরাহ শুরু করে কাতার। জাতিসংঘ প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে দক্ষিণ গাজার কারাম আবু সালেম বর্ডার ক্রসিং অতিক্রম করে জ্বালানিবাহী ছয়টি ট্রাক গাজার একমাত্র বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি পৌঁছে দেওয়া শুরু করে। এসব ট্রাকে চার লাখ ৫০ হাজার লিটার জ্বালানি ছিল। কাতারি জ্বালানিতে গাজার বিদ্যুৎ সরবরাহ আংশিকভাবে বাড়বে বলেও জানায় গাজার কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যেই শুক্রবার এসব তেল সরবরাহ বন্ধের নির্দেশ দিল ইসরায়েল।

শুক্রবার লাইবারম্যানের কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইসরায়েল এমন পরিস্থিতি সহ্য করবে না যেখানে একদিকে তেলবাহী ট্যাঙ্কার প্রবেশ করতে দেওয়া হবে আর অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনা সদস্য ও বেসামরিক মানুষদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও সহিংসতার ব্যবহার চলবে’। মুক্তিকামী ফিলিস্তিনি জনতার প্রতিরোধকে সন্ত্রাস ও সহিংসতা বলে প্রচার চালিয়ে থাকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। ফিলিস্তিন-ইসরায়েল ইস্যুতে ফিলিস্তিনের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেওয়া দেশগুলোর অন্যতম কাতার। বিশেষ করে অবরুদ্ধ গাজাবাসীর জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য ফেরাতে অঞ্চলটিতে কাজ করছে দোহা। তবে ২০১৭ সালের জুনে সৌদি জোটের কাতারবিরোধী অবরোধে গাজা উপত্যকার প্রতি কাতারি সমর্থন অব্যাহত রাখা দৃশ্যত কঠিন হয়ে পড়ে।

কেননা, সৌদি আরব চায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করুক কাতার। তবে হামাসকে মুক্তিকামী গাজাবাসীর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধি মনে করে দোহা।

কয়েক মাস ধরে গাজার সীমান্ত এলাকায় চলা বিক্ষোভ প্রশমিত করতে তেল সরবরাহ শুরু করে কাতার। ইসরায়েল ও মিসরের আরোপ করা অবরোধের কারণে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছে গাজার অধিবাসীরা। গত সপ্তাহে লাইবারম্যানের কার্যালয় গাজার মৎস্য আহরণ এলাকা সীমিত করারও নির্দেশ দিয়েছে। আগে গাজাবাসী সমুদ্রের ৯ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মৎস্য আহরণ করতে পারলেও নতুন নির্দেশে সেই এলাকা ৬ নটিক্যাল মাইলে নামিয়ে আনা হয়েছে। ওই সময়ে লাইবারম্যান বলেন, ইসরায়েল ও গাজাকে বিভক্তকারী বেড়ার পাশে বিক্ষোভে মাছ ধরা নৌকা ও বিক্ষোভকারীদের জড়ো হয়ে সহিংসাত সৃষ্টির জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের তরফে হুশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের ১১ বছর ধরে আরোপিত অবরোধের কারণে গাজায় মানবিক পরিস্থিতির ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে জাতিসংঘের মধ্যস্ততায় ও পর্যবেক্ষণে ইসরায়েলের ভেতর দিয়ে গাজায় তেল সরবরাহ শুরু করে ইসরায়েল। গত রোববার কাতারের এক কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানায়, জাতিসংঘের দাতা রাষ্ট্রগুলোর অনুরোধে চলমান মানবিক বিপর্যয়ের আরো খারাপ হওয়া ঠেকাতে দোহা গাজার বিদ্যুৎ সংকটে সহায়তা করার পরিকল্পনা করে।

২০০৭ সালের যুদ্ধের পর মাহমুদ আব্বাসের ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে গাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হামাস। পরের বছরেই এক সাধারণ নির্বাচনে জিতে যায় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের সশস্ত্র সংগঠনটি। এর ফলে ফিলিস্তিনি রাজনীতিতে সৃষ্টি হয় জটিলতা। গাজায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের শাসন পুনর্বহালের কয়েক দফা চেষ্টা হলেও তা ব্যর্থ হয়। ইসরায়েল বলছে, ২০০৮ সাল থেকে তিনটি যুদ্ধ করা হামাসকে বিচ্ছিন্ন করতে গাজায় অবরোধ দরকারি।

 

"