গাজায় বিক্ষোভে ইসরায়েলের গুলি, ৭ ফিলিস্তিনি নিহত

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সীমান্ত বরাবর ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভে ইসরায়েলি নিরাপত্তারক্ষীরা গুলি চালিয়ে সাতজনকে হত্যা করেছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন। শুক্রবার গাজা সীমান্তে এ বিক্ষোভে ১৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি অংশ নেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বিক্ষোভে গুলি চালানোর কথা স্বীকার করেছে তেল আবিবও। ফিলিস্তিনিদের একটি দল সীমান্ত বেষ্টনি ভেঙে ভেতরে ঢুকে সেনা চৌকিতে হামলা চালালে পাল্টা গুলি চালানো হয়, দাবি তাদের। এ নিয়ে চলতি বছরের মার্চ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ২০০ ছাড়াল।

১৯৪৮ সালে শরণার্থী হওয়া লাখ লাখ মানুষকে ইসরায়েলের দখলে থাকা এলাকায় ফিরতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে সীমান্ত বরাবর ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল হামাসসহ বিভিন্ন সংগঠন।

শুরুর দিন হিসেবে তারা বেছে নেয় ৩০ মার্চকে, ১৯৭৬ সালের এই দিনে ভূমি দখলের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ছয় বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছিলেন।

ভূমি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার ৭০তম বার্ষিকীতে ১৫ মে এ কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বিক্ষোভ বন্ধ হয়নি।

গাজার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে সম্প্রতি মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে মিসর, তার মধ্যেও সাপ্তাহিক বিক্ষোভগুলোতে তেল আবিবের গুলি চালানো অব্যাহত আছে।

শুক্রবারের বিক্ষোভে সাত ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরো প্রায় ১৪০ জন আহত হয়েছেন বলেও জানান গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

বিক্ষোভকারীরা সেনাসদস্য ও সীমান্ত বেষ্টনি লক্ষ্য করে পাথর, বিস্ফোরক দ্রব্য, আগুন বোমা ও গ্রেনেড ছোড়ে, ভাষ্য ইসরায়েলের।

একদল বিক্ষোভকারী ইসরায়েলÑ গাজা সীমান্ত বেষ্টনিতে বোমার বিস্ফোরণ ঘটালে ২০ জনের মতো বিক্ষোভকারী বেষ্টনির ছিদ্র হয়ে যাওয়া অংশ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে বলে টুইটারে জানান ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেনেন্ট কর্নেল জনাথন কর্নিকাস।

বেষ্টনি গলে ভেতরে প্রবেশ করাদের মধ্যে জনা পাঁচেক বিক্ষোভকারী ইসরায়েলের ভেতরকার একটি সেনা চৌকিতে হামলা করলে নিরাপত্তারক্ষীরা পাল্টা গুলি চালায়, এতে হামলাকারীরা সবাই নিহত হন, দাবি কর্নিকাসের।

ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এ বিক্ষোভে ফিলিস্তিনিরা ২০ লাখ বাসিন্দার শহর গাজার ওপর থেকে ইসরায়েলি ও মিসরের অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।

২০০৭ সাল থেকেই গাজা হামাসের নিয়ন্ত্রণে আছে, ইসরায়েল ও এর মিত্ররা এ সশস্ত্র সংগঠনটিকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবেই বিবেচনা করে।

দশককালেরও বেশি সময় ধরে হামাসের উত্থানে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত মিসর ও ইসরায়েল গাজা সীমান্তে অবরোধ আরোপ করে রেখেছে, যা ফিলিস্তিনি শহরটির অর্থনীতি একেবারেই ধ্বসিয়ে দিয়েছে।

সীমান্ত বরাবর বিক্ষোভের ডাক দিয়ে হামাসই সহিংসতা উসকে দিয়েছে বলে অভিযোগ তেল আবিবের। গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে গত এক দশকেই ইসরায়েলের সঙ্গে তিনবার যুদ্ধে জড়িয়েছে হামাস, শেষবারের সংঘাত হয়েছিল ২০১৪ সালে। বিক্ষোভের ডাক দিয়ে সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীটি।

সীমান্তের এ বিক্ষোভে ইসরায়েলি বাহিনীর মরণাস্ত্র ব্যবহারের কড়া সমালোচনা করেছে জাতিসংঘও।

সংকট নিরসনে কাতার, মিসর, জাতিসংঘসহ বেশ কয়েকটি পক্ষের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে হামাস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে শুক্রবার গোষ্ঠীটির শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়া তুরস্কের ইস্তাম্বুলে চলা এক সম্মেলনে গাজা থেকে দেওয়া ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন। শিগগিরই ‘অবরোধ ওঠার শর্তে শান্তি ফিরে আসবে’ বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

 

"