মাইকেলের ‘অভাবনীয় ধ্বংসযজ্ঞ’, নিহত ৬

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপকূল দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় ‘দানবীয়’ ঘূর্ণিঝড় মাইকেল অভাবনীয় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যটির গভর্নর রিক স্কট। অনেকের জীবন একেবারেই বদলে গেছে, অনেক পরিবার সব হারিয়েছে, বলেছেন তিনি।

বুধবার ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার গতির বাতাস নিয়ে আছড়েপড়া মাইকেল উপকূল সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর অসংখ্য ভবন ও গাছ গোড়া থেকে উপড়ে ফেলেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। বিপুল পরিমাণ ধ্বংসস্তূপের পাশাপাশি সড়কগুলোতে বিদ্যুতের তার ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। হারিকেনটির আঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ফ্লোরিডার উত্তর-পশ্চিম উপকূলে। ঝড়টি এখন দুর্বল হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মাইকেলে অন্তত ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কর্মকর্তারা।

ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ঝড়ের আগেই তিন লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে নির্দেশনা দেওয়া হলেও অনেকেই তা না মানায় হতাহতের পরিমাণ বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের।

ফ্লোরিডার গভর্নর স্কট বুধবার রাতেই জরুরি বিভাগের কর্মীরা ১০টি অভিযান চালিয়ে অন্তত ২৭ জনকে উদ্ধার করে বলে জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখন্ডে আঘাত হানা অন্যতম শক্তিশালী এ ঝড়টি সেদিন স্থানীয় সময় দুপুরেই মেক্সিকো বিচ শহরের কাছে ফ্লোরিডার প্যানহ্যান্ডেলে আছড়ে পড়েছিল।

আঘাত হানার সময় পাঁচ মাত্রার প্রায় কাছাকাছি শক্তি ধারণ করা মাইকেলের কারণে বিভিন্ন এলাকায় ৯ ফুট পর্যন্ত উঁচু ঢেউ দেখা যায়। তীব্র বাতাস ও ঝড়ের তান্ডবে গোড়া থেকে উপড়ানো বাড়ি এবং ভয়াবহ তান্ডবের ছবি মিলেছে হেলিকপ্টার থেকে নেওয়া সিএনএনের ভিডিও ফুটেজেও।

অসংখ্য গাছ পড়ে রয়েছে মেক্সিকো বিচের উত্তর-পশ্চিমের শহর পানামা সিটিতে। ধসে পড়া ভবনের পাশাপাশি নৌকা ও বিদ্যুতের তার ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

২ হাজার ৩০০ বাসিন্দার শহর আপালাচিকোলাও তছনছ হয়ে গেছে। ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুতের তারের কারণে সেখানে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন শহরটির মেয়র। ধ্বংসস্তূপ ও বন্যার পানির কারণেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছানো সহজ হচ্ছে না।

নিরাপদে সরে যাওয়া বাসিন্দাদের এখনি বাড়ি না ফিরতেও অনুরোধ করেছেন গভর্নর স্কট। বিদ্যুতের তার ও অন্যান্য ধ্বংসস্তূপজনিত বিপদ নেই, কর্মকর্তারা এমনটা জানানোর পর বাড়িতে ফেরারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে আছড়ে পড়ার আগে মাইকেল মধ্য আমেরিকার দেশগুলোতেও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। ঘূর্ণিঝড়টির তান্ডবে নিকারাগুয়া, হন্ডুরাস ও এল সালভাদরে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

১৯৬৯ সালে মিসিসিপি ও ১৯৩৫ সালে লেবার ডে-তে ফ্লোরিডায় আছড়ে পড়া ঝড়ের পর মাইকেলকেই যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখন্ডে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

রেকর্ড অনুযায়ী, এর আগে ফ্লোরিডার প্যানহ্যান্ডেলে চার মাত্রার কোনো ঝড় আঘাত হানেনি বলে জানিয়েছেন এনএইচসির আবহাওয়াবিদ ডেনিস ফেল্টজেন।

ঝড় মোকাবিলায় ন্যাশনাল গার্ডের আড়াই হাজার সদস্যকে মোতায়েন করার কথা আগের দিনই জানিয়েছিলেন ফ্লোরিডার গভর্নর রিক স্কট।

১০০ বছরের মধ্যে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় হতে পারে শঙ্কার কথা জানিয়ে এর ‘অকল্পনীয় ক্ষয়ক্ষতির’ব্যাপারেও সতর্ক করে দিয়েছিলেন তিনি।

মাইকেলের কারণে ফ্লোরিডা, আলাবামা, ক্যারোলাইনা ও জর্জিয়ার ৯ লাখেরও বেশি বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

শক্তি হারিয়ে ঘণ্টায় ৫০ মাইল গতির বাতাস নিয়ে ঝড়টি এখন উত্তর পূর্ব দিকের জর্জিয়া অতিক্রম করে নর্থ ক্যারোলাইনার গ্রিনসবরোর কাছাকাছি অবস্থান করছে বলে সর্বশেষ বুলেটিনে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি)।

উপকূলের পানির উচ্চতা বাড়ায় উত্তর-পশ্চিম ফ্লোরিডা ও নর্থ ক্যারোলাইনাতে প্রাণঘাতি বন্যা আঘাত হানতে পারে বলেও সতর্ক করেছে তারা।

হারিকেন ফ্লোরেন্সের পর সৃষ্ট বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই ক্যারোলাইনায় নতুন এ প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতি আরো নাজুক করে তুলবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

"