ওড়িশায় তিতলির তাণ্ডব

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের আবহাওয়া দফতরের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে ওড়িশার গোপালপুর এবং কলিঙ্গপত্তমের মাঝামাঝি এলাকা দিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আঘাত হানে। তিতলি ওড়িশার গোপালপুরে আছড়ে পড়ার সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল প্রতি ঘণ্টায় ১০২ কিলোমিটার। আর অন্ধ্র প্রদেশের শ্রীকাকুলামে গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সেখানে প্রবল জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে চলছে বৃষ্টি। বিভিন্ন জেলায় গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে। অন্ধ্র আর ওড়িশায় ট্রেন ও বিমান চলাচল বিঘিœত হচ্ছে। বহরামপুর ও গোপালপুরের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। টাইমস অব ইনডিয়া জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় তিতলির কারণে ওড়িশা রাজ্য সরকার ১৮টি জেলায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুই দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

তিতলি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ পাওয়ায় বুধবারই উপকূলীয় এলাকা থেকে তিন লাখ লোককে আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে হিন্দুস্থান টাইমস। ভারতের আবহাওয়া দফতরের বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, স্থলভাগে ওঠার পর মোটামুটি ঘণ্টায় ১৭ কিলোমিটার বেগে অগ্রসর হচ্ছে তিতলি। ঝড়টি আরো উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে কিছুটা বাঁক নিয়ে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের দিকে অগ্রসর হবে। সেই সঙ্গে ধীরে ধীরে কমতে থাকবে এর শক্তি।

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শক্তি কমে এলেও বিস্তর বৃষ্টি ঝরাবে তিতলি। সেই সঙ্গে চলবে দমকা হাওয়া, যার জের চলবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায়ও। ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় বুধবার থেকেই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুশিয়ারি সংকেত বহাল রেখেছে আবহাওয়া অধিদফতর। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা, ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, গত ২০ বছরে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ভারত বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। যার পরিমাণ প্রায় ৭৯৫ কোটি ডলার। সম্প্রতি জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিশ্বে ভারতসহ বেশ কিছু দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

‘ইকোনমি লসেস’ নামে জাতিসংঘের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভারতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিমাণ ১৫১ শতাংশ বেড়ে গেছে। এছাড়াও দুই দশক আগে এই আবহাওয়া সংক্রান্ত দুর্যোগের জন্য যে পরিমাণ ক্ষতি হতো, তার চেয়ে দ্বিগুণ আর্থিক ক্ষতির মুখে আছে ভারত।

জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭৮ সালে প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য যা ক্ষতি হয়েছিল, ১৯৯৭ সালে তার চেয়ে দ্বিগুণ ক্ষতি হয়েছে ভারতের। তবে জাতিসংঘের এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে ৯৪৪৮ কোটি ডলার প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য ক্ষতি হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে আছে চীন, দেশটির ক্ষতি ৪৯২২ কোটি, তৃতীয় স্থানে রয়েছে জাপান। দেশটির ক্ষতি ৩৭৬৩ কোটি এবং চতুর্থ অবস্থানে থাকা ভারতের ক্ষতি ৭৯৫ কোটি।

২০ বছরের প্রাকৃতিক দুর্যোগের তথ্যের ভিত্তিতেই এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ঝড়, বন্যা এবং ভূমিকম্প প্রবণ দেশ হিসাবে ১০টি দেশের তালিকায় ইউরোপের তিনটি দেশকে চিহ্নিত করেছে জাতিসংঘ। ওই দেশগুলোর তালিকায় প্রথম তিনে রয়েছে ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইতালি।

এই তিনদেশের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বিপুল। তালিকার শেষেই নাম রয়েছে থাইল্যান্ড এবং মেক্সিকোর। থাইল্যা-ের আর্থিক ক্ষতি ৫২৪ কোটি এবং মেক্সিকোর ক্ষতি ৪৬৫ কোটি। তবে ঝড় এবং বন্যাতেই বেশিরভাগ দেশ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে বলে জানানো হয়েছে।

 

"