যে কারণে জাতিসংঘে মার্কিন দূত নিকি হ্যালির পদত্যাগ

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত নিকি হ্যালি পদত্যাগ করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার এ ঘোষণা দেন। এ সময় পাশাপাশি বসেছিলেন ট্রাম্প ও হ্যালি। প্রথমে ট্রাম্প এবং পরে হ্যালি এই পদত্যাগের বিষয়ে কথা বলেন।

সে সময় হ্যালি বলেন, ‘জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আমার জীবনের সবচেয়ে সম্মানজনক বিষয়। এটাই ছিল আমার জন্য পদত্যাগ করার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। ব্যক্তিগত কোনো কারণ নেই।’

তিনি বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কখন তার সরে দাঁড়ানোর সময় হয়েছে তা বুঝতে পারা। আমি নিশ্চিত করতে চাই যে, এই প্রশাসন ও প্রেসিডেন্টের আরো অধিক যোগ্য ব্যক্তি আছে, যারা এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

ওভাল অফিসে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, এ বছরের শেষে রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে সরে যাবেন হ্যালি। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে হ্যালির উত্তরসূরির নাম ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে হ্যালি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে জাতিসংঘে যোগ দিয়েছিলেন।

ট্রাম্প বলেন, তিনি (হ্যালি) অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। ছয় মাস আগে হ্যালি তার কাছে কিছু সময়ের জন্য বিরতি চেয়েছিলেন। বিবিসি জানায়, ওভাল অফিসের বৈঠকে ট্রাম্প তাকে ভিন্ন কোনো পদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

গুঞ্জন আছে, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন হ্যালি। তবে হ্যালি বলেছেন, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই এবং তিনি ট্রাম্পের পক্ষে প্রচার চালাবেন।

পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে হ্যালি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট আপনাকে ধন্যবাদ। সারা জীবনের জন্য এটা সম্মানের।’ ট্রাম্প বলেন, ‘আমার জন্য হ্যালি খুবই বিশেষ, তিনি অসাধারণ দক্ষতার সঙ্গে নিজের কাজ করেছেন। তিনি চমৎকার একজন মানুষ এবং নিশ্চিতভাবেই এ দায়িত্ব পালনের জন্য যোগ্য ব্যক্তি।’

তিনি খেলোয়াড়দের খুব ভালো করে জানেন। তিনি চীন, ভারত ও যে কাউকে খুব ভালো করে জানেন এবং তারা তাকে পছন্দ করে। সেই সঙ্গে খুব সম্ভবত আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তারা তাকে সম্মান করে।

পদত্যাগের ঘোষণার আগে এক মাসের জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন হ্যালি। গত এপ্রিলে রাশিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা নিয়ে হোয়াইট হাউজ ও হ্যালি মুখোমুখি অবস্থানে ছিলেন। ট্রাম্পের অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ল্যারি কুদলোব সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তিনি (হ্যালি) সময়ের আগেই ওই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

এই নীতি নিয়ে যথাসময়ের আগেই পর্যালোচনা করে তিনি অল্প সময়ের জন্য হলেও বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হ্যালি এর কড়া জবাব দিয়ে ফক্স নিউজকে বলেন, ‘যথাযথ সম্মান দিয়েই বলছি, আমি বিভ্রান্তি ছড়াইনি।’

ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়ে যাওয়া বাবা-মায়ের সন্তান হ্যালি ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের কড়া সমালোচক ছিলেন। ওই সময় তিনি সাউথ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান গভর্নর ছিলেন।

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যখন যৌন নিপীড়নের একের পর এক অভিযোগ উঠছিল তখন তিনি বলেছিলেন, ওই সব নারীর ‘বক্তব্য শোনা উচিত’। এ ছাড়াও ট্রাম্পের মন্তব্য বিশ্বযুদ্ধ বাঁধিয়ে দিতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন হ্যালি।

 

"