নরমাংস ভক্ষণ বিষয়ে গবেষণার জন্য ‘নোবেল’

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাস্তবে যুগান্তকারী, দুনিয়াকে পাল্টে দেওয়ার মতো গবেষণা আর সৃষ্টিশীলতার জন্যই প্রতিবছর নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। কোন গবেষণার জন্য, কে, কোন বিষয়ে নোবেল পাচ্ছেন এ নিয়ে দুনিয়ার মানুষের আগ্রহের কোনো শেষ নেই। কেননা, নোবেল বিজয় মানেই সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে এক অর্থে বিশ্বসেরার স্বীকৃতি।

কিন্তু এর বিপরীতে ‘উদ্ভট’ সব বিষয়ে গবেষণার জন্যও এক ধরনের ‘বিশ্ব স্বীকৃতি’ দেওয়া হয়। আর এর নামও ‘নোবেল’-এর সঙ্গে মিল রেখে করা হয়েছে ‘অ্যান্টি- নোবেল’ বা ‘প্রতি- নোবেল’। নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে, মূলত নোবেলকে বিদ্রুপ করার জন্যই ‘প্রতি- নোবেল’ পুরস্কার দেওয়া হয়। ১৯৯১ সালে প্রথম এই পুরস্কার চালু করা হয়। একেবারে রীতিমতো হলভর্তি লোকের সামনে আয়োজন করে দেওয়া হয় এই পুরস্কার। যেনতেন ব্যাপার নয়! নোবেল পুরস্কারে বিজয়ীর জন্য থাকে অর্থ, সম্মাননা সনদ আর জমকালো আনন্দ আয়োজন। কিন্তু বিপরীতে যাকে ‘প্রতি- নোবেল’ দেওয়া হয়, তার জন্য পুরস্কার বলতে মূলত কিছুই থাকে না (এই না থাকাটাই পুরস্কার)। বিভিন্ন ভুয়া উপহার, মৌখিক ঠাট্টা-মশকরা, তামাশাই প্রতি- নোবেলে উপহার দেওয়া হয়; যা শুনলে আপনি মুহুর্মুহু অট্টহাসিতে ফেটে পড়বেন।

আর যেসব গবেষণার জন্য এই ‘প্রতি- নোবেল’ দেওয়া হয়, সেসবও আজব আর অদ্ভুতুড়ে! অবশ্য প্রায় সব গবেষণাই উদ্ভট হলেও কিছু কিছু বেশ তাৎপর্যবাহী।

বিদ্রুপাত্মক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘অ্যানালস অব ইম্পোরেবল রিসার্চ’-এর উদ্যোগে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়ে গল ‘প্রতি- নোবেল’ পুরস্কারের ২৮তম আসর। মূল নোবেলের সঙ্গে মিল রেখে ১০টি বিভাগে দেওয়া হয় ‘আইজি নোবেল’ নামে পরিচিত ওই পুরস্কার। এবারে পুরস্কার বিজয়ীদের জন্য ছিল জিম্বাবুয়ের ভুয়া ১০ ট্রিলিয়ন ডলার এবং এক মিনিট আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তৃতা দেওয়া। তাও আবার এক মিনিটের সে বক্তৃতা শেষ করার আগেই আট বছরের এক কন্যাশিশু চিৎকার করে বলবে, ‘দোহাই লাগে চুপ করো, (তোমার বক্তৃতাবাজি শুনতে শুনতে) বিরক্ত হয়ে গেলাম।’

যাই হোক, এবার নিশ্চয়ই আপনার জানতে ইচ্ছে করছে, এবার কে, কোন বিষয়ে গবেষণার জন্য এই ‘প্রতি-নোবেল’ পেলেন? এবার সবচেয়ে ‘কাক্সিক্ষত গবেষণার’ জন্য পুষ্টি খাতে ‘প্রতি- নোবেল’ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্য, তানজানিয়া ও জিম্বাবুয়ের গবেষকরা গবেষণা করে দেখিয়েছেন, নরমাংস ভক্ষণের ফলে মানুষের শরীরে যতটুকু ক্যালরি উৎপাদিত হয়, তা অন্য সাধারণ মাংসের চেয়ে অনেক কম। ‘প্রতি- নোবেল’ কমিটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে স্বাস্থ্য খাতে পুরস্কারের তথ্য জানানো হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ভয়ানক জোরে চলতে থাকা রোলার কোস্টারে আরোহণ করলে কীভাবে কিডনির পাথর ক্ষয় হতে পারে। ২০১৬ সালে করা এ বিষয়ক গবেষণা ও বিশেষ অবদানের জন্য এবারে স্বাস্থ্য খাতে পুরস্কার দেওয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রের দুই গবেষককে।

শিম্পাঞ্জি কীভাবে প্রায়ই মানুষকে অনুকরণ করে, উল্টোদিকে মানুষও যে শিম্পাঞ্জিকে অনুকরণ করে তা নিয়ে গবেষণার জন্য ইউরোপের সাতটি দেশের গবেষক দল এবং নৃবিদ্যায় ইন্দোনেশিয়ার একজনকে পুরস্কৃত করা হয়।

জীববিদ্যায় যৌথভাবে পুরস্কার পান কলম্বিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ডের একদল গবেষক। গন্ধ শুঁকেই এক গ্লাস মদে মাছির উপস্থিতি নির্ণয়বিষয়ক গবেষণাপত্রের জন্য তারা ওই পুরস্কার পান। এবার নিশ্চয়ই আপনি জানতে চাইছেন, ‘প্রতি- নোবেল’-এ শান্তির জন্য কোনো পুরস্কার আছে কি না? অবশ্যই আছে।

গাড়ি চালানোর সময় ভয়ংকর চিৎকার- চেঁচামেচি ও অপর পক্ষকে গালাগালি দেওয়ার হার, প্রভাব ও অনুপ্রেরণাবিষয়ক গবেষণার জন্য এবার বেশ কয়েকজনকে যৌথভাবে শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

"